যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে শিক্ষিকার ‘আত্মহত্যা’, স্বামী আটক

August 14, 2023 at 05:54AM
from somoynews.tv | RSS Feed
পারিবারিক কলহের জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মণি রানী নাগ (৩৮) নামে এক স্কুল শিক্ষিকা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মণি নাগ উপজেলার শাহবাজপুরের অজিত নাগের একমাত্র মেয়ে।
রোববার (১৩ আগস্ট) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি মারা যান। মণি নাগ উপজেলার কালিশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ তার স্বামীকে আটক করেছে।
পুলিশ ও নিহত শিক্ষিকার পরিবার সূত্র জানায়, প্রায় ১৮ বছর আগে মণি রাণী নাগের সঙ্গে উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের সাহাপাড়ার জিতু ধরের ছেলে অনিক রায়ের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে মণির বাবা অনিককে ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র দিয়েছিলেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মণি'র স্বামী অনিক তার ওপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। তারপরও সংসার করে যাচ্ছিলেন মণি রাণী। বিয়ের দুই বছর পর মণি কালিশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ পান। এরই মাঝে তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান আসে। তারপরও স্বামী অনিকের নির্যাতন অব্যাহত থাকে।
আরও পড়ুন: ‘পুরো পৃথিবী জানুক দুর্ঘটনা, তুই জানিস আত্মহত্যা, আমি জানি হত্যা’
বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। এসব ঘটনায় তাদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমাও হয়। দুটি মেয়ের কথা ভেবে সেই মামলা সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তি করেন মণি নাগ। কিন্তু সেই সুখ আর হয়নি মণি'র। পারিবারিক যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে রোববার দুপুরের পর চালের পোকা মারা বড়ি খেয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন মণি নাগ। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্বামী অনিকসহ মণিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মণি রানী নাগ মারা যান। এরই ফাঁকে সুযোগে তার স্বামী অনিক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তার স্বামী অরুয়াইলের ফটো স্টুডিও ব্যবসায়ী অনিক রায়কে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় অনিককে গ্রেফতার দেখানো হবে।