লত-হসবল দমপতর ঘর আল কর এল তন যমজ সনতন


July 06, 2023 at 08:59AM
from somoynews.tv | RSS Feed

চুয়াডাঙ্গায় লতা-হাসিবুল দম্পতির ঘর আলো করে এসেছে তিন যমজ সন্তান। এক ছেলে ও দুই মেয়ে সিজারের মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তিন সন্তানের নাম রাখা হয়েছে হুসাইন-তাসফিয়া- তাসকিয়া।

বুধবার (৫ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে লতা এই তিন যমজ সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর তাদের শারীরিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। তবে এখন তাদের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। সকালে মায়ের বুকে ফিরে যেতে পারবে তারা।


তিন সন্তান একসঙ্গে জন্ম হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিএন্ডবিপাড়ার লতা-হাসিবুল দম্পতির পরিবারের সকল সদস্যের মাঝে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। মাকে দেখাশুনা করছেন শাশুড়ি, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা। আর তিন সন্তানকে হাসপাতালে দেখাশুনা করছেন বাবা, ভাই, ফুপু, খালা, দাদা, চাচিসহ পরিবারের সদস্যরা।


একসঙ্গে তিন সন্তান জন্মেও খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিক ও হাসপাতালে মা ও নবজাতককে দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় এবং আত্মীয় স্বজনরা।


আরও পড়ুন: এক গ্রামেই সাড়ে ৪০০ যমজ সন্তান!


শিশুদের দাদা শের আলি বলেন, ঘর আলো করে একসঙ্গে তিন সন্তান জন্ম হওয়ায় পরিবারের সকল সদস্য খুশি। আমার ছেলে পড়াশুনা করে বেকার রয়েছে। তাদের মানুষ করতে হবে।


তিন নবজাতকের বাবা হাসিবুল বলেন, সাফিউল ইসলাম লাবিব নামে আমাদের পাঁচ বছরের এক ছেলে সন্তান আছে। একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় খুশি হলেও তাদের মানুষের মতো করে মানুষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। বাবার সঙ্গে ব্যবসা দেখাশুনা করি। সবার কাছে আমার সন্তানদের জন্য দোয়া চাই।


তিন নবজাতককে ভর্তির বিষয়টি জানার পর সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন। তিনি দ্রুত সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। মা ও তিন নবজাতক বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।


ক্লিনিকে মায়ের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। যমজ তিন সন্তানকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিন সন্তান হাসপাতালের এক বেডেই পাশাপাশি ঘুমিয়ে রয়েছে। সিজার অপারেশন করেন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন অধ্যাপক ডা. তরুণ কান্তি ঘোষ ও এ্যানেসথিয়া ডা. শফিকুল ইসলাম।


আরও পড়ুন: করোনায় আক্রান্ত মা, বুকের দুধ না পেয়ে অসহায় যমজ সন্তান


ডা. তরুণ কান্তি ঘোষ বলেন, খুব সাবধানতার সঙ্গে অপারেশন করেছি। একসঙ্গে তিন সন্তান জন্ম নেয়ার ঘটনা কম ঘটে। মায়ের শারীরিক অবস্থা ভাল আছে। অপারেশন সফল ভাবে সম্পূর্ণ করতে পেরে ভাল লাগছে।


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, বিকেলে তিন শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার পর বিষয়টি আমাকে সিস্টাররা জানান। হাসপাতালে ছুটে এসে তাদের চিকিৎসা দেই। একসঙ্গে জন্ম নেয়ায় তিন নবজাতক শারীরিক ভাবে কিছুটা দুর্বল ছিল। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন দেয়ার পর সুস্থ হতে শুরু করেছে। সকালে তারা মায়ের কাছে ফিরে যেতে পারবে। যমজ শিশু জন্ম হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু একসঙ্গে তিন বা চার শিশু জন্মের ঘটনা তেমন একটা ঘটে না। এর আগে আমি দোয়েল-কোয়েল-ময়না-টিয়ার চিকিৎসা দিয়েছিলাম। সেই চার শিশু বর্তমানে ভাল আছে। তারা আমার কাছে নিয়মিত চিকিৎসা নেয়।


উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৯ মে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের মাহবুল-কল্পনা দম্পতির ঘর আলো করে একসঙ্গে জন্ম নেয় চার সন্তান। তাদের নাম রাখা হয় দোয়েল-কোয়েল-ময়না-টিয়া। এই চার কন্যা সন্তান বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url