বাগেরহাটে মসজিদ ও মাদ্রাসার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

July 20, 2023 at 06:38AM
from somoynews.tv | RSS Feed
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ভুয়া রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জাল করে মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে জেলা পরিষদের বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মো. তাফাজ্জুল হোসাইনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্পের সভাপতি অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অহিদুজ্জামানের বেতন স্থগিত করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন-মোড়েলগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বাকি বিল্লাহ, সহকারি প্রকৌশলী শুভঙ্কর মণ্ডল ও সোহেল রানা।
জানা গেছে, বারইখালী ইউনিয়নের মধ্য জোমাদ্দারপাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দান উন্নয়ন, বারইখালী-সুতালড়ী জামে মসজিদ উন্নয়ন ও বিএসএস দাখিল মাদরাসার উন্নয়নের জন্য ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বাগেরহাট জেলা পরিষদ থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। ঐ টাকা উত্তোলনের জন্য প্রকল্পে ও ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি কমিটিতেই মাদ্রাসা সুপার অহিদুজ্জামান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মো. তাফাজ্জুল হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অর্থ উত্তোলন করে নেয়।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে প্রকৌশলীকে মারপিটের ঘটনায় মামলা
বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে জালিয়াতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।
জোমাদ্দারপাড়া বাইতুন নুর জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের মসজিদ কমিটির কেউ জানেন না যে আমাদের মসজিদের নামে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো.তাফাজ্জুল হোসাইন বলেন, তিনটি প্রকল্পের কোনোটাতেই আমি স্বাক্ষর করি নাই। যদি কেউ আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাীবি জানাই।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো. অহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার সভাপতি এসএম তারেক সুলতান বলেন, তিনটি প্রকল্পের নামে টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পুরা বিষয়টি উদঘাটনের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে চোরাই কয়লা জব্দের দুদিন পর মামলা, ব্যবসায়ী কারাগারে
জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে আমাদের কাছ থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। আসলে আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব না যে কাগজপত্রগুলো ভুয়া কিনা। কারণ তারা কাগজপত্রগুলো যথাযথভাবে তৈরি করে দিয়েছে।