বাড়তি ব্যয় বইতে চিড়েচ্যাপ্টা সাধারণ মানুষ


August 08, 2022 at 05:58AM
from somoynews.tv | RSS Feed

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গণপরিবহন থেকে দ্রব্যমূল্য সব কিছুর পেছনেই বাড়তি ব্যয় বইতে হচ্ছে ভোক্তাদের। সবকিছুর দায় যেন ঠেকেছে সাধারণ মানুষের ওপর।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে বাংলাদেশেও কমবে। যুক্তি ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বন্ড লাইসেন্স অ্যাপ্লিকেশন মডিউলের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

শুক্রবার ছুটির দিন রাতে হঠাৎই দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন দাম বাড়ে জ্বালানি তেলের। আর তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নানামুখী ক্ষেত্রে, যার সব কিছুই বর্তাচ্ছে সাধারণ মানুষের কাঁধে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিআটিএর মাধ্যমে ভাড়া বাড়িয়ে নেন গণপরিবহনের মালিকরা। ৯ মাসের মধ্যে ভাড়া বাড়ার হার ১৭ থেকে ২২ শতাংশ। অন্যদিকে বাজারেও পড়তে শুরু করেছে বিরূপ প্রভাব।

রোববার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজিরই পাইকারি দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা। খুচরা বাজারে যা ঠেকেছে ১০-২০টাকায়।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে বাংলাদেশেও কমবে: অর্থমন্ত্রী

সাধারণ মানুষ বলছেন, নানা বাহানায় একদিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে, গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ছে গণপরিবহন, দ্রব্যমূল্যসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে। কিন্তু বাড়ছে না আয়ের উৎস। সব মিলে তাই চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা নাগরিকদের।

এর আগে গত জুনে গ্যাসের দাম বেড়েছিল ২৩ শতাংশ। আবার বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ার ঘোষণাও আসতে পারে যেকোনো সময়।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে হঠাৎ করেই শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় সরকার। দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১৩০ টাকা এবং অকটেন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম কার্যকর হয়।

জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ৩৪ টাকা থেকে ৪৬ টাকা রেকর্ড দাম বাড়ানোর চাপে সাধারণ মানুষ। আলোচনা সমালোচনায় টক অব দ্য কান্ট্রি এখন তেলের দাম। শুধু বেশি দামে তেল কেনা নয় এরইমধ্যে জীবনযাত্রায় সবক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির চাপে মানুষের মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয়েছে এখন জ্বালানি তেল।

আমদানি করা পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেলে বা দেশে সরবরাহ সংকট থাকলে কর কমিয়ে বা প্রত্যাহার করে সহনীয় দামে সরকার জনসাধারণকে স্বস্তি দেয়।

জ্বালানি তেলের নতুন দামের হিসাবে দেখা যায়, বিপিসি পরিশোধন পর্যায়ে ডিজেলে প্রতি লিটারে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা মূল্য সংযোজন কর দেয়, ব্যবসায়ী পর্যায়ে রাজস্ব দিতে হয় আরও ২ টাকা ২৪ পয়সা, সর্বোচ্চ অকটেনে দেয়া হয় ১৬ টাকা ৩০ পয়সা ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ টাকা ৬৫ পয়সা।

এক অনুষ্ঠানে আজ হঠাৎ জ্বালানি তেলের এত বেশি মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আশপাশের দেশগুলোর কী অবস্থা? এখানে যে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা যুক্তি (লজিক) ছাড়া বাড়ানো হয়নি। বারবার বলা হচ্ছে, দাম বাড়ানোর সময় জনগণের প্রতি আমাদের লক্ষ্য থাকে। কতটুকু সহ্য করতে পারবে মানুষ, এটা বিবেচনায় থাকে।’ তবে যুক্তিগুলো কী, তা আর উল্লেখ করেননি অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশে ভোক্তারাও তার সুফল পাবেন। সারা বিশ্বে এখন দাম কমে আসছে। সব জায়গায় কমা শুরু হয়েছে। আমরাও কম দামে কেনা শুরু করেছি। এগুলো যখন দেশে এসে পৌঁছাবে, তখন চাপ থাকবে না। আমি মনে করি দেশের ভোক্তারা কম দামে জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে পারবেন।

জ্বালানি তেলের দামের হ্রাস-বৃদ্ধির জন্য স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করা হবে কি না, জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এ মুহূর্তে সেটা বলতে পারব না। তবে আমরা এলপিজি গ্যাসের মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করছি। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও আস্তে আস্তে তা চালু হবে।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url