পদ্মা সেতুর প্রশংসা করে বিপদে বিএনপি নেতা

June 29, 2022 at 06:24AM
from somoynews.tv | RSS Feed
প্রমত্তা পদ্মার বুকে আত্মমর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এটি দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সংযোগ স্থাপন করলেও মূলত গোটা দেশকে এক কেন্দ্রে এনেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের পথটা সহজ ছিল না। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে শুরু করে উদ্বোধন পর্যন্ত মোকাবিলা করতে হয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র। চক্রান্তের জাল বিছিয়ে মিথ্যাচার আর নানা গুজবের মাধ্যমে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করেছে সুশীল সমাজের কয়েকজন। বাদ যায়নি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত্তিহীন অভিযোগ ও নানা কটাক্ষ।
উদ্বোধনের পরও এখনো বন্ধ হয়নি পদ্মা সেতু নিয়ে অপপ্রচার। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী, স্থায়ীত্বের সক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে পদ্মা সেতু প্রশংসিত হলেও সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে টিকটক বানানোর ভিডিও নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে।
আওয়ামী লীগের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে দলটি। রোববার (২৬ মে) বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করে ইতোমধ্যে সমালোচিতও হয়েছে তারা।
এরমধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দলীয় এক নেতার আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস। এতে বেজায় চটেছে বিএনপি। পদ্মা সেতু ঘিরে ৪৫ বছর আগের আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করায় চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলুল হককে শোকজ করেছে দলটি। এমনকি তিন দিনের মধ্যে তার কাছে জবাবও চেয়েছে দলটি।
আরও পড়ুন: ‘পদ্মা সেতু সক্ষমতার স্মারক-আত্মমর্যাদার প্রতীক’
শনিবার (২৫ জুন) এক স্ট্যাটাসে ফজলুল হক লেখেন, 'যুগ যুগ অপেক্ষার পর আজ দক্ষিণ পশ্চিম বাংলার স্বপ্ন পূরণ হলো, আলহামদুলিল্লাহ। ছোটকালে বরিশাল থেকে ঢাকা আসতাম তখন খুব ভয়ে থাকতাম কখন লঞ্চ পদ্মা নদী পাড়ি দেবে। রাত ১১টা-১২টার সময় খালাসিরা ডেকে বলতো লঞ্চ এখন পদ্মা পাড়ি দেবে, সকলে আল্লাহকে ডাকুন দোয়া কালাম পড়ুন, ছোটরা ঘুমিয়ে যাও। তখন ডরে কাঁথা মুরা দিয়ে শুয়ে থাকতাম। তুফান বাতাসের শো শো আওয়াজে ভয়ে কেঁপে উঠতাম, এই বুঝি লঞ্চ ডুবে গেল। রাত ২টা-৩টার সময় খালাসি ডাকতো চাঁদপুর চাঁদপুর। কাঁথা নিচ থেকে মাথা বের করে দেখতাম চাঁদপুরের বিদ্যুৎ বাতি দেখা যায়। আবার ঢাকা থেকে বাড়ি আসতে একই কষ্ট। বাড়ি এসে মুরব্বিদের সঙ্গে কষ্টের কথা বলতাম। আমার বড় চাচাকে বললাম আচ্ছা জাদু, পদ্মা নদীর ওপর দিয়ে একটা পোল বানাইয়া দিতে পারে না! জাদু বললো—ও স্বপ্নের কথা। আমি অর্থ না বুঝে চলে গেলাম। আজ ৪৫ বছর পর (আমার হিসেবে) দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার স্বপ্ন পূরণ হলো। সেটা পোল নয়, স্বপ্নের বহুমুখী পদ্মা সেতু। আজ ২৫ জুন উদ্বোধন হলো স্থলপথের যাতায়াত। আমাদের টাকায় আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। কথাটি সত্য কিন্তু একজন উদ্যোক্তা লাগে। আর সেটা করল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।'
আরও পড়ুন: ‘শুধু ড. ইউনূস নয়, অনেকেই ষড়যন্ত্রে জড়িত’
গত রোববার দেয়া আকবর শাহ থানা বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ফজলুল হক পদ্মা সেতু নিয়ে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে তা ভাইরাল হয়েছে। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে তিন দিনের মধ্যে থানা বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের বরাবর লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেয়া হলো।
তবে এ বিষয়ে আকবরশাহ থানা বিএনপির কেউই কথা বলতে রাজি হননি।
বিএনপির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে দলের অনেক নেতার পদ্মা সেতু বিরোধী বক্তব্যের কারণে এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছে দলটি। দেশে-বিদেশে সবার কাছে যখন প্রশংসিত হচ্ছে পদ্মা সেতু, তখন দলটির এমন কর্মকাণ্ডে বিএনপির দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জনরোষের মুখে পড়ছে দলটি।