আরও চারদিনের রিমান্ডে সাংবাদিক জুবাইর


June 29, 2022 at 06:41AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ভারতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার খ্যাতনামা সাংবাদিক ও ফ্যাক্ট চেকার মোহাম্মদ জুবাইরকে আরও চারদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুন) দিল্লির একটি আদালত তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

২০১৮ সালে এক টুইটার পোস্টের মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে সোমবার (২৭ জুন) রাতে জনপ্রিয় ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট অল্ট নিউজের সহপ্রতিষ্ঠাতা জুবাইরকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। গ্রেফতারের পরই এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়।

পরদিন তাকে আবারও দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে তোলা হয়। আদালতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে। টুইটারে বিশেষ একটি ধর্মের দেবতাকে ইচ্ছাকৃত অপমান করে ছবি পোস্ট করায় তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে আরও জেরা করা প্রয়োজন।

পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। তবে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই সঙ্গে যে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ থেকে জুবাইর টুইট করেছিলেন, সেটা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আরও পড়ুন : টাটার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো ভারতীয় ব্যবসায়ী পালোনজি মারা গেছেন

আদালতে জুবাইরের আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের মার্চ মাসের যে টুইটের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে সেটা ১৯৮৩ সালের একটি সেন্সর পাস করা সিনেমার ছবি। আইনজীবীর দাবি, জুবাইর মুসলিম ও সাংবাদিক হওয়ার কারণেই এই ধরনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে তোলা হচ্ছে। অনেকেই এই ধরনের টুইট করেন। তার নাম ও পেশার কারণে তাকে ধরা হয়েছে। তার জামিনের জন্য আবেদনও করা হয়েছিল। তবে আদালত জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেননি।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক জুবাইর। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন বিতর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা। তার ওই মন্তব্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন জুবাইর।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বড় সংকটে পড়ে। মুসলিম বিশ্ব বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ক্ষোভে ফেটে পড়ে। নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের পাশাপাশি (মহানবীকে নিয়ে) আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায়।

মূলত ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর জুবাইরকে গ্রেফতার করা হলো। গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর একটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, সাংবাদিক জুবাইরের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের এক টুইটে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, চলতি মাসে বালাজিকিজাইন নামে একটি টুইটার হ্যান্ডেল থেকে অভিযোগ করা হয়, হিন্দু দেবতা হনুমানের নামে নামকরণ করা একটি হোটেল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে হিন্দুদের অপমান করেছেন সাংবাদিক জুবাইর। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে তাকে বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া তার গ্রেফতারের পাঁচদিন আগে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে টুইটার কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, সাংবাদিক জুবাইরের টুইটার অ্যাকাউন্ট ভারতীয় আইন লঙ্ঘন করেছে।

আরও পড়ুন : হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে ৩ দিনের শিশুকে কামড়ে মারল কুকুর!

অল্ট নিউজের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রতীক সিনহা এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, গ্রেফতারের আগে জুবাইরকে কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি যা দেয়া বাধ্যতামূলক। প্রতীক আরও বলেন, গ্রেফতারের পর জুবাইরকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লির বুরারি এলাকায় পুলিশ বাসের মধ্যে আটকে রাখা হয়।

আলাদা এক টুইটার বার্তায় প্রতীক বলেন, গ্রেফতারের সময় জুবাইরের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জুবাইরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা আমাকে কিম্বা জুবাইরের আইনজীবী- কাউকে কিছু বলা হচ্ছে না। আমরা তার সঙ্গে পুলিশ বাসেই ছিলাম। কোনো পুলিশেরই বুকে নেমপ্লেট ছিল না।

ভারতের তথ্য প্রযুক্তির শহর বেঙ্গালুরুর ছেলে জুবাইর পেশায় একজন তথ্য-প্রযুক্তি প্রকৌশলী। আর প্রতীক সিনহা সফটওয়্যার প্রকৌশলী। দুইজন মিলে ২০১৭ সালে ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট অল্ট নিউজ প্রতিষ্ঠা করেন। 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে অসংখ্য ভুয়া খবর শনাক্ত করেছে। এসব খবরের বেশিরভাগই হিন্দু কট্টর ডানপন্থী নিউজ পোর্টাল থেকে ছড়ানো হয়। এছাড়া ক্ষমতাসীন বিজেপি  নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্ন দাবি মিথ্যা প্রমাণ করেছে ওয়েবসাইটটি।

জুবাইরের গ্রেফতার ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তার এ গ্রেফতারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিরোধী দলের নেতা ও অধিকারকর্মী ও সংগঠনগুলো এরইমধ্যে জুবাইরের মুক্তি দাবি করেছে। তারা বলছে, যারা ক্ষমতাসীনদের বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও দাবির অসারতা জনসম্মুখে তুলে ধরেন, তাদের দমনেই এটি হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা।


 

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url