সেতু ভেঙে সীমান্তবর্তী গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

August 09, 2023 at 06:20AM
from somoynews.tv | RSS Feed
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে আসা-যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম কাঠের তৈরি একটি সেতু। সেতুটি ভেঙে পড়ায় সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ভবানীপুর গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার মানুষ।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সেতুটি পাহাড়ি পানির স্রোতের তোড়ে বিধ্বস্ত হলে এমন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এই ভবানীপুর গ্রামে বসবাস করছে গারো, হাজংসহ বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই কাঠের সেতু।
এর আগে এখানকার মানুষের যাতায়াতের জন্য একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ হয়েছিল, তবে সেটি কিছুদিন পরই নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: সেতু তো নয়, যেন মরণ ফাঁদ
এরপর কাঠ-বাঁশ দিয়ে তৈরি সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেছে ওই গ্রামের বাসিন্দারা। সবশেষ অবলম্বন কাঠের এই সেতুটিও ধসে পড়ে যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা চিত্রা সাংমা বলেন, ‘নেত্রকোনা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় আমরা খুবই বিপাকে পড়েছি। যতদিন না এখানে সেতু নির্মাণ হবে ততদিন আমরা শহরে যেতে পারব না। তাই আমাদের যাতায়াতের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো.সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ায় ওই পাড়ের মানুষ খুবই দুর্ভোগে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনেও তারা আসতে পারছেন না। এই সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন: নতুন সেতুতে দীর্ঘ যানজট, তবুও আনন্দ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো.খোয়াজুর রহমান জানান, বর্ডারের আইন রয়েছে যে সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা যায় না। তবে জিরো পয়েন্টের বটতলা স্থানের পূর্বের ভেঙে যাওয়া সেতুর নদীর পাড় বাঁধাইয়ের কাজ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর জিরো পয়েন্টের ১৫০ গজ দূরত্বে রাস্তা করে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান জানান, সেতুটি বিকেলে পরিদর্শন করেছি। সেতুটি পাহাড়ি ছড়ার পানির স্রোতে ভেঙে ওই গ্রামের মানুষের শহরে আসার পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পানির স্রোত কমলেই সেতুটি মেরামত করা হবে। এছাড়াও সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।