কুবি শিক্ষার্থীর বহিষ্কার নিয়ে তোলপাড়, এবার হল ছাড়াতে নির্দেশ

August 06, 2023 at 07:21AM
from somoynews.tv | RSS Feed
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দুর্নীতি নিয়ে দেয়া বক্তব্য ধরে সংবাদ প্রকাশ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ইকবাল মানোয়ার রুদ্রকে প্রথমে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় তোলপাড়, দাবি উঠে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের। এরইমধ্যে সেই শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিলো কুবি প্রশাসন।
ইকবাল মানোয়ার রুদ্র ২০১৭-১৮ সেশনের নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। শুক্রবার (৪ আগস্ট) হল প্রাধাক্ষ্য ড. মিহির লাল ভৌমিক স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশটির বিষয়ে জানাজানি হয়। যদিও এতে ৩ আগস্টের স্বাক্ষর রয়েছে।
সাংবাদিক ইকবাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ৪ আগস্ট মেইল বার্তার মাধ্যমে তিনি এই তথ্য জেনেছেন।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশ প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে পরবর্তী কার্যার্থে কাজী নজরুল ইসলাম হলের হল প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইকবাল মানোয়ারকে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ বলবৎ থাকাকালীন হলে অবস্থান করতে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ইকবাল বলেন, আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সহকারী রেজিস্টার স্যার ফোন দিয়ে বলে যে, একটা চিঠি আছে আমাকে গ্রহণ করতে হবে। ফোন পেয়ে প্রসাশনিক ভবনে যাওয়ার পর আমার স্বাক্ষর নেয়া হয়। পরে আমাকে একটা চিঠি দেয়া হয়। যেটা ছিল আমার বহিষ্কারাদেশের।
তবে বহিষ্কারাদেশের পূর্বে আমাকে কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। বহিষ্কারাদেশ এটা উল্লেখ করা হয়নি যে, কোন আইনে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার পত্রিকা অফিসেও কোনো লিখিত বা অলিখিত অভিযোগও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি।
এদিকে দৈনিক যায়যায়দিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকবাল মানোয়ারকে বহিষ্কারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। শনিবার (৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে বক্তারা তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসাথে ‘দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গাওয়ায়’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এমস আবদুল মঈনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: উপাচার্যের বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ, কুবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার
আজকের মানববন্ধনে অংশ নেয়া সাবেক ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা বর্তমানে ঢাকায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধন থেকে বক্তরা বলেন, শিক্ষার্থী ইকবাল মানোয়ারকে বহিষ্কারের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাই শিগগরিই ইকবালকে তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খালি নেই। অন্যথায় তাকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ডেইলি স্টারের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি অর্থনীতির শিক্ষার্থী হিসেবে বলতে চাই, উপাচার্যের অর্থনীতির সংজ্ঞা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি যে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন হওয়ার কথা বলেছেন, সেটি কখনো সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সামনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অগ্রহণযোগ্য। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে ক্ষমাপ্রার্থনা করে তার স্থান থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মীর মোহাম্মদ জসিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম আবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন শিশির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আলী ইউনুস হৃদয়, ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি নাজমুস সাকিব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইলি স্টারের সাবেক প্রতিনিধি আব্দুলাহ আব্বাস, কুবিসাসের সাবেক সভাপতি শাহাদাত বিপ্লব ও সাবেক সহ সভাপতি আবু বকর রায়হান, বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি আকরাম হোসেন, বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, সিলেট এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সোহেল আহমদ এবং তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি আহমেদ ফেরদাউস খানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ক্যম্পাস সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।