য যতটক অপরধ করব তর ততটক শসত পত হব: পরধন বচরপত


July 06, 2023 at 06:55AM
from somoynews.tv | RSS Feed

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, যে যতটুকু অপরাধ করবে তার ঠিক ততটুকু শাস্তি পেতে হবে। তা যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে আইনের শাসন, গণতন্ত্র কিছুই প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আসুন সবাই একসঙ্গে চেষ্টা করি, যাতে করে এই দেশে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। আর এর ভিত্তি হলো জুডিশিয়ালিকে শক্তিশালী করা।

বুধবার (৫ জুলাই) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য ‘ন্যায়কুঞ্জ’র ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগকে শক্তিশালী রাখতে হবে। বিচার ব্যবস্থা ফেইল করলে গণতন্ত্র ফেইল করবে, আর গণতন্ত্র ফেইল করলে রাষ্ট্র ফেইল করবে। অতএব এটা আমরা হতে দিতে পারি না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। বিচারকরাও প্রচণ্ড পরিশ্রম করেন, তাদেরকে আরও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি যাতে জাজমেন্টের মান বহাল রেখে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ে। সে জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে। আমার মনে হয় আমরা পারবো।


তিনি বলেন, আমাদের জীবনে ১৯৭১ এসেছিল। ‘৭১ আমরা একটা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। এখন আমাদের ১৭ কোটি মানুষের দায়িত্ব এই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আসেন আমরা কঠোর পরিশ্রম করি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই শতাব্দীকে বাঙালি জাতির সমৃদ্ধির শতাব্দী হিসেবে পরিবর্তন করি। এজন্য আমাদের রাষ্ট্রের যে সংগঠনগুলো আছে, অর্গানগুলো আছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জুডিশিয়াল কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যাতে বিচারপ্রার্থীদের আদালতের বারান্দায় এসে হয়রানির শিকার না হতে হয়।


আরও পড়ুন: মামলার জট কমাতে কাজ হচ্ছে: প্রধান বিচারপতি


হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, অনেক কেস পেন্ডিং থাকে বছরের পর বছর। এটা যদি কন্টিনিউয়াস থাকতেই থাকে। এক সময় বিচার প্রার্থীরা ভাবতে পারে বা বলতে পারেন- দেশে বিচার আচার নাই। এটা আমার মনে হয় জুডিশিয়ালির জন্য সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। আমরা এটা হতে দিতে পারি না।
সেজন্যই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ে।


তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই মামলার নিষ্পত্তির হার বেড়েছে। ২০১৯ সালের সঙ্গে ২০২২ সাল তুলনা করলে নিষ্পত্তির হার ৩০ শতাংশ বেশি। যত ফাইলিং হয় তার চেয়ে যদি কিছু বেশি ১২৫ শতাংশ করতে পারি তাহলে আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে এখন যে অবস্থা মামলার জট, এটা একটা সহনশীল অবস্থায় আসবে।


প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা যেমন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জুডিশিয়ালিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।


ন্যায়কুঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থী, যাদের জন্য বিচারালয়, যাদের জন্য আইনজীবী, যাদের জন্য আমরা সবাই। তারা আদালতে আসেন, কোথায় বসবেন, কোথায় দাঁড়াবেন, এর কোন জায়গা ছিল না। সে জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলি ‘দেখেন যাদের জন্য আদালত, যাদের জন্য এই অবকাঠামো, যাদের জন্য আমরা, তারা আদালত প্রাঙ্গণে এসে যেন বুঝতে পারে বসবার জায়গা আছে, আরও একটু যেন স্বস্তিতে থাকতে পারে। তার একটা ব্যবস্থা করা। প্রধানমন্ত্রী ৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছেন। তার থেকে প্রতি জেলায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা করে দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ন্যায়কুঞ্জে দুটি টয়লেট থাকবে, একটি মহিলাদের এবং একটি পুরুষদের জন্য। একটা ফাস্ট ফুডের ছোট দোকান থাকবে সেখান থেকে যা আয় হবে, সেটা দিয়ে ক্লিন রাখা হবে। কিছু প্যান থাকবে এবং ৬০ থেকে ৭০টা বসার চেয়ার থাকবে। ন্যায়কুঞ্জ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ।


প্রধান বিচারপতি বলেন, এখন অ্যাপসের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা বাড়িতে বসেই মামলার ফলাফল জানতে পারছেন। আর অ্যাপসের মাধ্যমে দেশের কোথায় কোন মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, কোনটা পেন্ডিং রয়েছে জানা যাচ্ছে।


আরও পড়ুন: যে জজ বিচার বিক্রি করবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধান বিচারপতি


পরে তিনি জেলা জজ কোর্ট মিলনায়তনে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনামূলক ভাষণ দেন।


বিকেল ৪ টায় প্রধান বিচারপতি জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে মুন্সীগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ১৭৮ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে কেক কাটেন এবং  প্রধান অতিথির ভাষণ দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এই আয়োজনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রাব্বানী, মুন্সীগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আব্দুল হান্নান, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ রসুল, পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান আল মামুন।


জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. জাকারিয়া মোল্লার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক দুই সভাপতি আর্শেদ উদ্দিন চৌধুরী ও মজিবুর রহমান, পিপি আব্দুল মতিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির সাবেক সহসভাপতি মুজিবুর রহমান শেখ।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান, আপীল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. সাইফুর রহমান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) ফায়জুন্নেছা, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিলু রায়, প্রধান বিচারপতি একান্ত সচিব মো. আরিফুর ইসলামমহ জজশীপের বিচারক ও আইনজীবীসহ অতিথিরা।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url