এক অধ্যাপককে ‌‘গলা চেপে’ ধরার হুমকি ডিনের


July 27, 2023 at 07:47AM
from somoynews.tv | RSS Feed

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দুই শিক্ষকের মধ্যে হট্টগোল ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক এক শিক্ষককে ‘গলা চেপে ধরব’ বলে তেড়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তুলেছেন প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. গোলাম কবীর।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার (২৬ জুলাই) অনেকবার কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হকের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারও ফোন রিসিভ করেননি।

 

ভুক্তভোগী অধ্যাপক হলেন- প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. গোলাম কবীর। তিনি এর আগে ফিজিক্যাল অ্যাডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের সভাপতি ছিলেন।

 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২৪৪তম সভার ২৮নম্বর আলোচ্য সূচিতে যথাযথ নিয়মে আমার মতামত ব্যক্ত করি। বক্তব্যের পরে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। আমিসহ আরও কয়েকজন তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে তাঁর মতামত প্রদানের অনুরোধ করা হয়। এতে তিনি উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন অশালীন ও আপত্তিকর শব্দ (যেমন, বেয়াদব ও তোর গলা চেপে ধরব ইত্যাদি) প্রয়োগ করে বক্তব্য দিতে থাকেন।

 

আরও পড়ুন: চবিতে সাংবাদিক নির্যাতন: ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বহিষ্কার

 

জানা যায়, দুজনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ডিন উত্তেজিত হয়ে চট্টগ্রামের ভাষায় বলে ওঠেন, ‘গলা চিবি ধইয্যুম এক্কোবারে’ (একবারে গলা চেপে ধরব)। এ সময় বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক হেলাল নিজামী কলা অনুষদের ডিন মাহবুবুল হককে নিবৃত্ত করা চেষ্টা করেন।

 

অধ্যাপক গোলাম কবীর বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় একটা এজেন্ডা আলোচনার সময় আমি ভিসিকে সাপোর্ট করেছিলাম, ওনার (ডিন) সঙ্গে তখন দ্বিমত হয়; হঠাৎ করেই ‘বেয়াদব’, ‘গলা চেপে ধরব’ বলে তিনি আমার দিকে তেড়ে আসেন। অন্য ডিনরা না থামালে তিনি হয়তো শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতেন।

 

তিনি আরও বলেন, ‘একটা এজেন্ডা ছিল, লিখিত পরীক্ষা ছাড়া কীভাবে জাতীয় খেলোয়াড়দের নেয়া যায়। তিনি (ডিন) বলছিলেন এভাবে হলে নৈরাজ্য হবে। আমি বললাম, একটা সিস্টেম ডেভেলপ করলে নৈরাজ্য হবে কেন। এভাবে দ্বিমত হতে হতে হঠাৎ তিনি ক্ষিপ্ত ও মারমুখী হয়ে ওঠেন।’

 

আপনিও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেছেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক কবীর বলেন, ‘পরে আমি প্রতিবাদ জানিয়ে বলি, আপনি এভাবে তেড়ে আসতে পারেন না, এভাবে কথা বলতে পারেন না। একজন শিক্ষক এমনটা করতে পারেন না। এটা কি বিশ্ববিদ্যালয় নাকি কুস্তি খেলার জায়গা? আমি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।’

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার (২৬ জুলাই) অনেকবার কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হকের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারও ফোন রিসিভ করেননি।
 

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url