বড় প্রাপ্তি স্মার্ট বাংলাদেশের রোডম্যাপ

June 02, 2023 at 07:05AM
from somoynews.tv | RSS Feed
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যের নাম দেয়া হয়েছে ‘উন্নয়নর অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে যাত্রা করছে বাংলাদেশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ২০৪১ সাল ও এর প্রথম পদক্ষেপ নতুন অর্থবছরের বাজেট।
স্মার্ট বাংলাদেশ আসলে কী, এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সেই রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন। তার বাজেট বক্তব্য অনুসারে বাংলাদেশের মানুষ এমন এক বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।
এছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশে দারিদ্রসীমার নিচে থাকবে ৩ শতাংশেরও কম মানুষ আর চরম দারিদ্র নেমে আসবে শূন্যের কোটায়। বাজারে মূল্যস্ফীতি ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং বাজেট ঘাটতি হবে জিডিপির ৫ শতাংশেরও কম।
২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশে রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাত হবে ২০ শতাংশের ওপরে এবং বিনিয়োগ বেড়ে হবে জিডিপির ৪০ শতাংশ। স্মার্ট বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে শতভাগ ডিজিটাল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতে নাগরিকরা হবে দক্ষ এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে মানুষের দোরগোড়ায়।
আরও পড়ুন: ‘যা চাই তার দাম বেড়েছে, যা চাই না তার কমেছে’
অন্যদিকে লেনদেনের ক্ষেত্রে পেপারলেস ও ক্যাশলেস একটি সমাজ তৈরি হবে। আর যোগাযোগ ব্যবস্থায় লাগবে প্রযুক্তির ছোঁয়া। সর্বোপরি স্মার্ট বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা।
এক নজরে স্মার্ট বাংলাদেশের রোডম্যাপ
বৃহস্পতিবার (১ জুন) নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিকাল ৩টায় তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটের আকার সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, এটি জিডিপির ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। আর পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট চার লাখ ৩৬ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতে দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়ন সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এ হার গত বাজেটে ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ও এক লাখ দুই হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হলো।
আরও পড়ুন: যেসব পণ্যের দাম কমবে
প্রস্তাবিত বাজেটে পাঁচ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
নতুন অর্থবছরে মোট জিডিপির পরিমাণ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এবং সুসংহত অভ্যন্তরীণ চাহিদার কল্যাণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নতুন অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এদিকে নতুন অর্থবছরের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। আর এই মূল্যস্ফীতির লাগাম ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যেই টেনে রাখার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দাম বাড়বে যেসব পণ্যের
২০২৩-২৪ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে সবচেয়ে বেশি খাতওয়ারি বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ। যা ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি। এ খাত বরাদ্দ পেয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। তারপরেই রয়েছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (১৫ দশমিক ২ শতাংশ), জ্বালানি ও বিদ্যুৎ (১২ দশমিক ৫ শতাংশ), জনপ্রশাসন (৭ দশমিক ২ শতাংশ, কৃষি (৫ দশমিক ৯ শতাংশ), স্বাস্থ্য (৫ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ (৩ দশমিক ২ শতাংশ)।
বাজেটে পণ্যবাজারে প্রভাব
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন ধরনের পণ্যে শুল্ক কর এবং ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ কারণে কিছু কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।
এ কারণে দাম কমবে মাংস ও মাংসজাত পণ্য, দেশীয় বৈদ্যুতিক এলইডি বাল্ব ও সুইচ-সকেট, মিষ্টি জাতীয় পণ্য, বিলাসবহুল পণ্য, অভিজাত বিদেশি পোশাক এবং ই-কমার্সের ডেলিভারি চার্জ।
এছাড়াও স্প্রেয়ার মেশিন, কীটনাশক, দেশে উৎপাদিত ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের ওষুধ, ডায়াপার, শ্যাম্পু, সাবান, আমদানিকৃত কৃষি যন্ত্রপাতি, আমদানিকৃত মাছ, পোল্ট্রি খাদ্য, আমদানিকৃত উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, মিষ্টি, হাতে তৈরি বিস্কুট-কেক, দেশীয় জুসের মেশিন, স্প্রে মেশিনের দাম কমবে।
আরও পড়ুন: আমিও গরিব ছিলাম, কষ্টটা বুঝি: অর্থমন্ত্রী
নতুন অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক আরোপ বা আগের চেয়ে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে দামি গাড়ি, বাইসাইকেল, নির্মাণ সামগ্রী, জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন, সিগারেট, বাসমতি চাল, কাজুবাদাম, স্বর্ণ, খেজুর, বিদেশি আঠা বা গ্লু , ভ্রমণ খরচ, প্লাস্টিকের গৃহস্থালি পণ্য, ফ্রিজ, ফ্যান ও এক্সেলেটর, টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, টিস্যু, ন্যাপকিন, কোমল পানীয়, ওভেন, কলম, চশমা ও এলপিজি সিলিন্ডার।
]]>