কড়গরম হজর নদরশনর সগরম থক সবধনত চধর জদঘর

June 14, 2023 at 08:59AM
from somoynews.tv | RSS Feed
কুড়িগ্রামের ‘সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা চৌধুরী জাদুঘর’। জেলা শহরের গোরস্থান পাড়া এলাকায় আরকে রোডে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী সফিকুল ইসলামের নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত এ জাদুঘরটিতে ইতিহাস ঐতিহ্যের বিশাল সংগ্রহশালা থাকলেও যেন নিভৃত-নির্জনেই রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিকসহ নানা নিদর্শনে সাজানো হয়েছে জাদুঘরটিকে। ২০০৬ সাল থেকে পতাকা ভবন নামে চৌধুরীর বাড়িতেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এ জাদুঘর।
দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ব্রিটিশ আমলসহ নানা সময়ের প্রায় ৭ হাজার নিদর্শন সংগ্রহ করেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চৌধুরী সফিকুল ইসলাম। এরপর নিজের তিন তলা বাড়ির ৪টি রুমসহ বিভিন্নস্থানে প্রায় ৫ হাজার নিদর্শন দর্শনার্থীদের জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আরও দুই হাজার নিদর্শন রয়েছে অন্ধকারে। ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে রয়েছেন বর্তমান সভাপতি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অন্তু চৌধুরী। দুই বছর আগে মারা যাওয়া বাবার পথ ধরে তিনি এখনও সংগ্রহ করছেন যুদ্ধকালীন সময়ের নানা নিদর্শন। সরকারি সহায়তা পেলে অন্যত্র জাদুরের ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার কথা জানান তিনি।
সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা চৌধুরী জাদুঘরের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অন্তু চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম চৌধুরী সফিকুল ইসলাম গত ৩৫-৩৬ বছর দেশ-বিদেশ থেকে দেশের মুক্তিযুদ্ধসহ ব্রিটিশ আমলের নানা নিদর্শন সংগ্রহ করেছেন। সবমিলিয়ে নিদর্শনের সংখ্যা ৭ হাজারেরও বেশি। এরমধ্যে ৫ হাজার নিদর্শন বাড়ির রুমে দর্শনার্থীদের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আরও দুই হাজার নিদর্শন জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সাজানো সম্ভব হয়নি। আমার বাবার মৃত্যুর পর আরও নিদর্শন সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমরা চাই এসব নিদর্শন দেখে তরুণ প্রজন্ম উজ্জীবিত হবে ও স্বাধীনতার চেতনায় দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে উঠবে।’
জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী সফিকুল ইসলামের স্ত্রী আফরোজা জাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা আছে সরকারি সহযোগিতা পেলে অন্যত্র ভবন নির্মাণ করে বড় পরিসরে এ জাদুঘর স্থাপন করার।’
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিয়ে স্টেশনে স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর
এই জাদুঘরটিকে নিয়ে তেমন প্রচার-প্রচারণা না থাকায় বর্তমানে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক কম। তবে যারাই আসছেন তারাই মুগ্ধ হচ্ছেন এখানকার সংগৃহীত নিদর্শন দেখে।
জাদুঘরের নিদর্শন দেখতে আসা স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, এখানে এতো বেশি সংগ্রহশালা রয়েছে, তা তাদের জানা ছিল না। জাদুঘর দেখতে এসে তারা অভিভূত।
জাদুঘরটিকে নতুনরূপে সাজিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দাবি জানান জাদুঘরে আসা দর্শনার্থীরা।
শুধু নিদর্শনই নয়, এ জাদুঘরে রয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীনতার উত্তরকাল থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত সকল কাগজের নোট, কয়েন, ব্রিটিশ আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের কাগজের নোট ও কয়েন, জমিদারি প্রথার আসবাবপত্র ও সেকালের ব্যবহৃত গহনা।