ঝড় তুলে শান্তর প্রথম সেঞ্চুরি, অবিশ্বাস্য জয়ের পথে টাইগাররা!


May 13, 2023 at 12:50AM
from jagonews24.com | rss Feed

তামিম, লিটনের পর ফিরে গেলেন সাকিবও। মাথার ওপর পাহাড়সম লক্ষ্য। ১০১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত আর তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে অবিশ্বাস্য এক জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

চতুর্থ উইকেটে শান্ত-হৃদয় মিলে ১০২ বলে যোগ করেছেন ১৩১ রান। শান্ত এরই মধ্যে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, ৮৩ বলেই।

ঝড় তুলে এগোচ্ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। চোখ জুড়ানো কিছু শট খেলা হৃদয় অবশেষে ফিরেছেন ৫৮ বলে ৬৮ করে। যে ইনিংসে ৫টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা হাঁকান এই তরুণ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৪.২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৩৭ রান। শান্ত ১০৮ আর মুশফিকুর রহিম শূন্য রানে অপরাজিত আছেন। ৬৪ বলে বাংলাদেশের দরকার ৮৩।

৪৫ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য ৩২০ রান। নিঃসন্দেহে কঠিন। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর লিটন দাস দলকে ভরসা দিতে পারলেন না। তামিম তো আউট হয়ে যান ৭ করেই, লিটন ভালো শুরু করলেও থামেন ২১ বলে ২১ রানে।

৪০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে চাপ সরানো এক জুটি সাকিব আল হাসান আর নাজমুল হোসেন শান্তর। ৪৭ বলে ৬১ রানের জুটিতে প্রতিপক্ষ যখন কোণঠাসা, ঠিক তখন সাকিব ভুল করে বসলেন।

কুর্তিস ক্যাম্ফারের বলে সোজা পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দিলেন সাকিব (২৭ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৬)। আইরিশরা বাঁচলো বড় বিপদ থেকে। সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে বড় জুটি গড়েছেন শান্ত।

এর আগে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে বেশ কোণঠাসা করে রেখেছিলেন আইরিশ ব্যাটারদের। কিন্তু এক হ্যারি টেক্টরই যেন সব পরিকল্পনা উলটপালট করে দিলেন। একাই করলেন ১৪০। কার্টেল ওভারের ম্যাচে ৪৫ ওভারে আয়ারল্যান্ড দাঁড় করালো ৬ উইকেটে ৩১৯ রানের পাহাড়।

চেমসফোর্ডে টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। শুরুতেই আইরিশরা পড়ে বড় চাপে। হাসান মাহমুদ আর এবাদত হোসেনকে সামলে প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ১৬ রান তুলতে পারে আয়ারল্যান্ড।

হাসান মাহমুদ করেন জোড়া শিকার। ১৬ রানেই ২ উইকেট হারায় আইরিশরা। হাসান ইনিংসের প্রথম ওভারে পল স্টারলিংকে (০) বানান উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ। প্রথমে অবশ্য আম্পায়ার আউট দেননি। রিভিউ নিয়ে জিতে বাংলাদেশ। দেখা যায় বল স্টারলিংয়ের ব্যাট হালকা ছুঁয়ে গেছে মুশফিকের গ্লাভসে।

এরপর আইরিশরা খোলসে ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু সপ্তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন হাসান। এবার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে আউটসাইডেজ হয়ে মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়েন স্টিভেন দোহানি (১২)।

১৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আইরিশরা। ৯৮ রানের জুটি গড়েন হ্যারি টেক্টর আর অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নি। টেক্টর ফিফটি তুলে নেন, বালবির্নিও ছিলেন হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায়।

অবশেষে প্রতিরোধ গড়া এই জুটিটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি এই পেসারকে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হন বালবির্নি (৪২)।

এক ওভার পর এসে শরিফুল ফেরান ঝড় তুলতে চাওয়া লরকান টাকারকে। মারমুখী খেলতে গিয়ে মিসটাইমিং হয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে লিটন দাসকে ক্যাচ দেন আইরিশ এই ব্যাটার (১১ বলে ১৬)।

এরপর তাইজুল ইসলামকে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন কুর্তিস ক্যাম্ফার (৮)। কিন্তু টেক্টরকে আটকানো যায়নি। মারকুটে ব্যাটিংয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ব্যাটার।

বিধ্বংসী এই সেঞ্চুরিয়ান অবশেষে থেমেছেন ৪২তম ওভারে গিয়ে। এবাদত হোসেন বোল্ড করেন তাকে। তবে তার আগে ১১৩ বলে ৭ চার আর ১০ ছক্কায় ১৪০ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস খেলেন টেক্টর।

শেষদিকে নেমে ঝড় তুলেছেন জর্জ ডকরেলও। ৪৭ বলে ৩ চার আর ৪ ছক্কায় ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

হাসান মাহমুদ আর শরিফুল ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট।

এমএমআর/এমআআর


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url