বাচ্চাদের মারার আগে ভাবুন, না হলে এই ক্ষতিগুলো হতে পারে!

March 02, 2023 at 06:39AM
from somoynews.tv | RSS Feed
আপনার ছোট বাচ্চাটি সবেমাত্র দুনিয়া চিনতে শুরু করেছে, যার কাছে বাবা-মা প্রধান ভরসার জায়গা। বিপদে পড়লে আগে ছুটে এসে তো আপনার কোলেই সে আশ্রয় নেয়। আর তারাই যখন দুষ্টুমি করে, তখন যেন ভুল করেও তাদের গায়ে হাত তুলবেন না। এতে করে লাভের থেকে ক্ষতি হবে বেশি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কোনোভাবেই শিশুদের মারধর করা উচিত নয়। এতে বাচ্চাদের মধ্যে এক ধরনের ভয়ের সৃষ্টি হয়। তা শারীরিক হতে পারে বা মানসিক। আসলে শিশুদের ইমোশনাল মেমরি স্ট্রং। যা অনেকদিন পর্যন্ত থেকে যেতে পারে। যার ফলে বড় হয়েও কিছু করতে গেলে আগে সে ভয় পাবে। মারধর করলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই কোনো অবস্থাতেই বাচ্চার গায়ে হাত তোলা উচিত নয়।’
এক্ষেত্রে বাচ্চাদের কী কী সমস্যা হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চাদের মারধর করলে তারা খুব ভিরু হয়ে যায়। অবচেতন মনে এই কষ্টের স্মৃতি বার বার ঘুরে ফিরে আসতে পারে। আবার কারোর ক্ষেত্রে জেদ বেড়ে যায়। বাবা-মায়েরা যদি বাচ্চাকে আঘাত করে, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে প্রতিরোধ স্পৃহা বাড়তে শুরু করে।
বড় হয়ে সেও অন্যকে আঘাত করতে পারে। এমনটা নয় যে বাচ্চা সব সময় জেনে বুঝেই আঘাত করবে। কারও কারও ক্ষেত্রে তো বড় হওয়ার পরেও এমন মানসিকতা থেকে যেতে পারে। তাই বুঝতেই পারছেন বাচ্চাকে মারলে তার একটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে, যা উপেক্ষা করার নয়।
আরও পড়ুন: খালি পেটে কুসুম গরম পানি পানের উপকারিতা
বাচ্চারা দুষ্টমি করলে কী কোনো শাস্তি দেয়া যাবে না?
বাচ্চার জেদ বা ট্যানট্রাম সামলানোর জন্য মারধর বা বকাবকির প্রয়োজন নেই। বাবা-মার ধৈর্য সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। চিকিৎসকের মতে, বাবা-মার উচিত নিরীহ উপায়ে শিশুকে শাস্তি দেয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চার সঙ্গে নানা চুক্তি করুন। সহজভাবে বললে, যেমন ধরুন এই কাজটি করলে তবেই প্রিয় খেলনাটি সে পাবে। না হলে তার থেকে তা নিয়ে নেয়া হবে। এতে ফলাফল পাবেন।
টাইম আউট পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন
বাচ্চা দুষ্টুমি করলে তাকে ঘরের কোনে বসিয়ে রাখুন একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এই সময়ে কেউ তার সঙ্গে কথা বলবেন না বা আদর করবেন না। বাড়ির সবাই একসঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিন। বাচ্চা কথা না শুনলে তার সঙ্গে কেউই যেন কথা না বলে সে দিকে নজর দিন। এই সময় কেউ যদি তাকে আদর করে বা কথা বলে, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এক্ষেত্রে যিনি এই শাস্তি দিচ্ছেন তাকে হয়তো বাচ্চা অসম্মান করতে শুরু করতে পারে। তাই পরিবারের সকলকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
]]>