নেত্রকোনায় স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যাচেষ্টায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

January 04, 2023 at 05:58AM
from somoynews.tv | RSS Feed
শ্বশুর বাড়ি থেকে দেয়া টাকা স্ত্রীর কাছ থেকে নিতে মধ্যরাতে বুকের ওপর বসে গলায় ছুরি চালায় স্বামী কাজল। পরে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে বালিশ চাপা দিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া এবং মামার বাড়ির লোকজন গোঙানির আওয়াজ শুনে গলাকাটা অবস্থায় নদী ইসলামকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নদী ও তার পরিবারের অভিযোগ, সোমবার (২ জানুয়ারি) রাতে জেলা শহরের নাগড়া পশ্চিম পাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি অবস্থান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন নদীর স্বামী নাইম হাসান কাজল। ভুক্তভোগীর গলায় ৫১টি সেলাই দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) খবর পেয়ে নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে আসে নদীর আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সকলেই মাদকাসক্ত স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
নদীর মা মিনা বেগম বাদী হয়ে দুপুরে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মেয়ের জামাই কাজলসহ মোট তিনজনকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
হাসপাতালে শুয়ে থাকা সঙ্কটাপন্ন নদী জানান, তার স্বামীর কোনো কাজ নেই। তাই মা-বাবা নানাবাড়িতে জায়গা করে দিয়েছে। তাদের ৫ বছরের একটি শিশু সন্তানও রয়েছে। প্রায় সময় কাজল এমন অত্যাচার করে বিধায় ৫ থেকে ৬ মাস আগে ঢাকায় মায়ের কাছে বড় মামার বাড়িতে চলে যায়। পরে কয়েক দিন আগে গিয়ে হাতে পায়ে ধরে কাজল তাকে নিয়ে আসে। আসার সময় মা ও মামা মিলে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা দেন সংসার চালানোর জন্য। কিন্তু নেশার জন্য এ টাকা নিতেই সে মেরে ফেলতে আমার গলায় ছুরি চালায়।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় নিজ অস্ত্রের গুলিতে বিজিবি সদস্যের মৃত্যু
তিনি জানান, সোমবার রাতে টাকার জন্য ঝগড়া করে নিজ ঘরে দুজন দুই জায়গায় ঘুমিয়ে গেলে হঠাৎ ওঠে এসে বুকের ওপর বসে গলার মধ্যে ছুড়ি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে পালিয়ে যায় নাইম (২৫)। পরে পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া ও পরিবারের লোকজন গোঙানির আওয়াজ পেয়ে উদ্ধার করে রাতেই জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে তাকে।
পুলিশ, পরিবার-স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর আগে প্রেম করে আনন্দবাজার এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে নাইম হাসন কাজলের সঙ্গে পশ্চিম নাগড়াবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে নদী ইসলাম পালিয়ে বিয়ে করেন। বয়স তখন ১৩ অথবা ১৪। এরপর ধীরে ধীরে মেয়ের মায়ায় বাবার বাড়ি থাকতে দেন। কিন্তু প্রায় সময় বেকার কাজল টাকার জন্য নির্যাতন করে আসছিল। এ কারণে বড় মামা কয়েক মাস আগে ৫ বছরের নাতনিসহ ভাগ্নিকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। ক্ষমা চেয়ে হাতে পায়ে ধরে সেখান থেকে নদীকে নিয়ে আসে কাজল। মামা ও মায়ের দেয়া প্রায় অর্ধ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিতেই তাকে এভাবে হত্যার জন্য গলায় ছুড়ি চালায়।
বড় মামা আব্দুল মালেক জানান, যেহেতু মেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, আমরা প্রথমে রাগ করেছিলাম। কিন্তু মেয়ের কষ্টের কথা ভেবে আমরাই ভরণ-পোষণসহ বাড়ি করে দিয়েছি। এইবার আমার কাছে গিয়ে শেষবারের মতো মাফ চেয়ে নদী নিয়ে এসে হত্যা করতে চেয়েছিল।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে চোর সন্দেহে ৩ জনকে গণপিটুনি
এ ঘটনায় নদীর মা মিনা বেগম বাদী হয়ে মডেল থানায় ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। নদী দশম শ্রেণিতে পড়ছেন।
তিনি বলেন, আমার মেয়েকে বারবার নির্যাতন করছে। এবার আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে এনে পরিকল্পনা করে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আমি এর ফাঁসি চাই। যাতে আর কোনো মেয়ের বেলায় এমন ঘটনা না ঘটে।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মনসুর জানান, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকলেও আমরা সেবা দিচ্ছি। আদালত থেকে রিপোর্ট চাইলে দেয়া হবে। সে ব্যাপারে আগেই কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, একটি সাক্ষী দিতে ময়মনসিংহে আছি। থানায় মামলা দেয়ার ব্যবস্থা চলছে।