সেন্টমার্টিনে বিলুপ্তি পথে সামুদ্রিক কাছিম


January 15, 2023 at 06:16AM
from somoynews.tv | RSS Feed

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে দিন দিন হুমকি মুখে পড়ছে সামুদ্রিক কাছিম। গত কয়েক বছর আগেও প্রচুর পরিমাণ সামুদ্রিক কাছিম দ্বীপে ডিম পাড়তে আসতো। কিন্তু গেল, দু’বছর ধরে সেটি অনেকটায় কমে এসেছে।

এজন্য দ্বীপে হোটেল মোটেল রিসোর্ট ও কটেজসহ নানা স্থাপনা বৃদ্ধি, মানুষের উৎপাত, শব্দ ও হিংস্র বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিকে দায়ী করছেন গবেষকরা।

এদিকে শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে দ্বীপের উত্তরপাড়া সৈকতে মৃত অবস্থায় বিলুপ্ত প্রজাতির হক্সবিল কাছিমের পড়ে থাকতে দেখতে পান বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের বোরি) একদল গবেষক। যারা দ্বীপে ১০ দিন গবেষণার কাজ করবেন।

আট সদস্যের গবেষক দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন বোরির উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ শরীফ।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজে বিকেল ৪টার দিকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পৌছায় আমরা। এক পর্যায়ে বিকেল বের হয়ে সৈকত পাড়ে ঘুরতেই বালিয়াড়িতে মৃত কাছিম দেখতে পাই। তবে কাছিমটি ছিল ছোট। যার আকার ১ ফুটের মতো। এটার পিঠের চামড়া উঠে গেছে। তবে একটু কাছে গিয়ে কাছিমের পা দেখতে পায়। এরপর পেছনের অংশও দেখলাম। দেখি এটি দুর্লভ বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিরল সামুদ্রিক কাছিম। সাধারণত কোরাল এলাকা তাদের খুব পছন্দ এবং এসব এলাকায় তাদের বসবাস। এটা যে উপকার করে সেটি হচ্ছে, তাদের সাঁতারের মাধ্যম প্রবালে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে। এটা হক্সবিল প্রজাতির কাছিম। যার ঠোঁট হচ্ছে বাজপাখির মতো।

আরও পড়ুন: বাসস্থান সংকটে বিলুপ্তির পথে ‘প্রকৃতির প্রকৌশলী’

আবু সাঈদ মোহাম্মদ শরীফ আরও বলেন, সম্ভবত ৪ থেকে ৫ দিন আগে মারা যায় কাছিমটি। কিন্তু কিভাবে বিলুপ্ত প্রায় কাছিমটি মারা গেল তা জানা যায়নি। তবে মাথার আঘাতের প্রকৃতি দেখে ধারণা করা যায়, বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে কাছিমটি মারা গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবু সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন,  সেন্টমার্টিন দ্বীপে নানা কারণে কাছিমের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। দ্বীপে হোটেল মোটেল রিসোর্ট ও কটেজসহ নানা স্থাপনা বেড়েছে। একই সঙ্গে মানুষের আনাগোনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, বেওয়ারিশ কুকুর কাছিমকে আক্রমণ করছে এবং ডিমও নষ্ট করে দিচ্ছে। এসব কারণে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আগের মতো কাছিম দেখা যায় না। বিশেষ করে, হক্সবিল কাছিম একদম দেখাই যায় না। গেল বছর বা চলতি বছর হক্সবিল কাছিম দ্বীপে এসেছিল কিনা তা জানা নেই। তবে, শনিবার দ্বীপে বিলুপ্তির প্রজাতির এই হক্সবিল কাছিমটি দেখা যায়।

আবু সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, প্রধান বিষয় কাছিম যেখানে ডিম পাড়তে আসে প্রতি বছর সেই নির্দিষ্ট স্থানেই ডিম পাড়ে। সেখানে যদি মানুষের কোনো ধরণের উৎপাত থাকে অর্থাৎ শব্দ, মানুষের বিচরণ বা হিংস্র বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি থাকে তাহলে সেখানে আর সামুদ্রিক কাছিম ডিম পাড়তে আসে না।

আরও পড়ুন: জনসম্মুখে একে একে ১০৮ ডিম পাড়ল কাছিম

‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের যেসব স্থানে কাছিমের আবাসস্থল ছিল, সেগুলো কিন্তু বিভিন্ন কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়াও দ্বীপে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব কারণেই কিন্তু কাছিম এখন হুমকির সম্মুখীন। সেন্টমার্টিন দ্বীপে খুব কম রেকর্ডই আছে কাছিম এসেছে গত দুই-এক বছরে। কিন্তু দ্বীপে এর আগে প্রচুর কাছিম আসতো। কিন্তু এখন দেখা যায়, দ্বীপে একটি কাছিম ডিম পাড়তে এসেছে, এতে অনেক কিছু পেয়ে গেলাম আমরা। কিন্তু বাস্তবায়নে কাছিম অনেকটায় বিলুপ্তির পথে।’

দ্বীপে সামুদ্রিক কাছিম রক্ষার ব্যাপারে আবু সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, কাছিমের যে আবাসস্থল আছে এগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যা একদম প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষণ থাকে। দ্বীপে যে ডেইলগুলো ছিল, তা নষ্ট হয়ে গেছে। এই ডেইলগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এখন ভাবতে হবে, কাছিম যেখানে ডিম পাড়ে সেসব স্থান চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসব স্থানে যাতে মানুষ আনাগোনা, গান-বাজনার শব্দ বা কুকুরের উৎপাত না থাকে জরুরিভাবে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url