সেন্টমার্টিনে বাজার করতে টাকা লাগে না!


January 06, 2023 at 05:53AM
from somoynews.tv | RSS Feed

পরিত্যক্ত প্লাস্টিককে সবাই অবমূল্যায়ন করলেও এবার সেই প্লাস্টিকই হয়ে উঠেছে মূল্যবান। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিয়েই ব্যাগভর্তি বাজার করতে পারছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা। ১ থেকে ৫ কেজি প্লাস্টিক জমা দিয়ে চাল, ডাল, তেল, মুরগি, ডিম, আটা, সুজি, কম্বল, শীতের কাপড় ও লুঙ্গি নিচ্ছে দ্বীপবাসী।

বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) সকালে দ্বীপে দেখা যায়, সবার হাতে বস্তা; বৃদ্ধ থেকে শুরু করে নারী-শিশু সবাই ছুটছেন এই বস্তা নিয়ে। বস্তার ভেতরে রয়েছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, চিপস ও জুসের প্যাকেট। বেড়াতে এসে সৈকতে বালিয়াড়িতে পর্যটকদের ফেলে দেয়া এসব প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেছেন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা। যা জমা দিয়ে বিনিময়ে বাজার করবেন তারা। 


দ্বীপের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, পর্যটকরা দ্বীপে আসলেই অনেকেই প্লাস্টিকের বোতল, চিপস ও জুসের প্যাকেট সৈকতের বালিয়াড়িতে ফেলে দেয়। আর আমরা এসব পরিত্যক্ত প্লাস্টিকগুলো সংগ্রহ করে রাখি। এরই মধ্যে এক সপ্তাহে ৫ বস্তা প্লাস্টিক সংগ্রহ করেছি। এখন এসব প্লাস্টিক জমা দিয়ে ব্যাগ ভর্তি বাজার করে ঘরে নিয়ে যাব।


বেলা ১২টা না বাজতে দ্বীপের মেরিন পার্ক এলাকা মানুষে ভরে যায়। বস্তাভর্তি প্লাস্টিক নিয়ে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকেন নারী-পুরুষ ও শিশুরা। এরপর প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলছে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। প্লাস্টিকের বিনিময়ে নিত্যপণ্য পাওয়ায় খুশি দ্বীপের মানুষ।


আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিন থেকে ১৮০০ কেজি সামুদ্রিক বর্জ্য পরিষ্কার


দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আয়েশা খাতুন বলেন, ১০ কেজি প্লাস্টিক জমা দিয়ে কাগজের ১০ টাকা দিয়েছে। তার মধ্যে ৫ টাকা দিয়ে একটি মুরগি, ১ টাকার চাল, ২ টাকার তেল, আর বাকি ২ টাকা দিয়ে ১ ডজন ডিম নিয়েছি। অনেক খুশি আমরা। এদিকে দ্বীপের প্লাস্টিক পরিষ্কার হচ্ছে অন্যদিকে আমরা বলতে গেলে বিনামূল্যে ব্যাগভর্তি বাজার পাচ্ছি।


দ্বীপের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবলমাত্র সরকারের। কিন্তু আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও সরকারের একার পক্ষে পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা। এছাড়াও পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের মূল্য দেয়া বা রিসাইকেল করার মতো কোনো ব্যবস্থা সেন্টমার্টিনে না থাকায় সেখানকার মানুষ প্লাস্টিককে অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেন।


দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটিকে প্লাস্টিকের দূষণ থেকে বাঁচাতে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। যাতে সহযোগিতা করছেন জেলা প্রশাসন। পর্যটক ও স্থানীয়দের যত্রতত্র ব্যবহারের পর ফেলা দেয়া এসব প্লাস্টিক বর্জ্য দূষিত করছে সমুদ্রের প্রাণ-বৈচিত্র্যকে। অথচ এসব বর্জ্য অপসারণে নজর নেই কারও।


বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সংগৃহীত প্লাস্টিক দ্বীপ থেকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে রিসাইকেল করা হয়। সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবীরা কক্সবাজারে তৈরি করেছেন বিশাল আকৃতির একটি ‘প্লাস্টিক দানব’।


আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বিনিময়ে মিলছে চাল-ডাল-তেল


'ধারণা করা হচ্ছে এই দানব এশিয়ার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় স্ট্যাচু। এই দানব তৈরির মাধ্যমেই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন মানব সমাজকে একটি বার্তা দিতে চায় যে, প্লাস্টিকের ফলে পরিবেশ যেই হারে দূষিত হচ্ছে তা ধীরে ধীরে দানবে রূপ নিচ্ছে। আর এই দানবই পরবর্তীকালে মানবসমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।'


কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান বলেন, সেন্টমার্টিনসহ অন্যান্য দ্বীপ ও সমুদ্রসৈকত দূষণমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও মানুষের অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে সেটি পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করে ও তাদের সম্পৃক্ত করে যে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে জেলা প্রশাসন। আশা করছি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা হবে।


প্রতি ১৫ দিন পরপর প্লাস্টিকের বিনিময়ে এসব পণ্য সরবরাহ করে বিদ্যানন্দ। যা শুরু গেল মাসে। এতে প্রতিবার ৮ থেকে ১০ টন প্লাস্টিক জমা দেয় দ্বীপের মানুষ। যা ঢাকায় নিয়ে রিসাইকিলিং করে করা হয় ব্যবহার উপযোগী।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url