শেষ হচ্ছে কুইন অব দ্য স্কাইয়ের রাজত্ব


December 20, 2022 at 04:56AM
from somoynews.tv | RSS Feed

জাম্বো জেট নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশালাকৃতির একটি বিমানের ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর সেভেন ফোর সেভেন সিরিজের বিমানগুলোকে তার বিশাল আকৃতির কারণেই অভিহিত করা হতো জাম্বো জেট নামে। বাংলাদেশের আকাশেও হরদমই চোখে পড়ে এই বিমান।

তবে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের আকাশ দাপিয়ে অবশেষে থামতে যাচ্ছে এর উড়ে চলা। সম্প্রতি বোয়িং-এর অ্যাসেম্বলি লাইন থেকে বের হয়ে এসেছে বিশ্বের সবশেষ জাম্বোজেটটি। নতুন আর কোনো বোয়িং সেভেন ফোর সেভেন নির্মাণ করবে না বোয়িং।

নিজের বিশালাকৃতি এবং এভিয়েশনের জগতে রাজত্বের কারণে সেভেন ফোর সেভেনকে অভিহিত করা হয় ‘কুইন অব দ্য স্কাই নামে’।

আরও পড়ুন: গবেষণা সংস্কৃতি গড়তে গবেষণা সংসদের ভূমিকা প্রশংসনীয়: আরেফিন সিদ্দীক

বিশালাকৃতির পাশাপাশি বোয়িং সেভেন ফোর সেভেনের বৈশিষ্ট্য হলো এর একদমে দীর্ঘ সময় ওড়ার সক্ষমতা। ফুয়েল ক্যাপাসিটি বেশি হওয়ার কারণে এশিয়া থেকে আমেরিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়া থেকে আফ্রিকা ননস্টপ কোনো ধরনের রিফুয়েলিং ছাড়াই উড়ে যেতে পারে জাম্বোজেটগুলো।

জাম্বোজেটের জনপ্রিয়তা ও ইমেজ এভিয়েশনের ইতিহাসে একমাত্র সুপারসনিক কনকর্ডের সঙ্গেই তুলনীয়। ২০২০ সালে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাম্বোজেটে যাত্রী হিসেবে চেপেছেন প্রায় ছয়শ কোটি মানুষ। পাশাপাশি অতিক্রম করেছে সাড়ে সাত হাজার কোটি মাইল, যা চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজারবার যাতায়াতের সমান।

অবশ্য, আধুনিক প্রযুক্তির নতুন দুই ইঞ্জিনের বিমানের আবির্ভাব এবং সেভেন ফোর সেভেনের চারটি তেলখেকো ইঞ্জিনের কারণে দিন দিন এয়ারলাইন অপারেটরদের কাছে খরুচে হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল সেভেন ফোর সেভেন।

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যুগে বিশ্বের বিমান সংস্থাগুলোর কাছে জাম্বো জেটের থেকে বেশি চাহিদা বোয়িং সেভেন এইট সেভেন কিংবা এয়ারবাস থ্রি হানড্রেড ফিফটির মতো বিমানগুলোর। সেভেন ফোর সেভেনের থেকে এগুলো ওড়াতে তেল লাগে অনেক কম।

তবে জাম্বোজেটের চাহিদা পড়ে যায় মূলত করোনা লকডাউনের সময়। এ সময় বিশ্বজুড়ে বিমানযাত্রীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এয়ারলাইনসগুলো সেভেন ফোর সেভেন বিমানগুলো চালাতে হিমশিম খেতে থাকে। এমনকি জাম্বোজেট ব্যবহারের জন্য বিখ্যাত ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কিংবা ভার্জিন আটলান্টিকের মতো এয়ালাইনসগুলোও তাদের আইকনিক ডাবল ডেকার বিমানগুলোকে বিদায় জানাতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে প্লাস্টিক জমা দিলেই পাওয়া যাবে নিত্যপণ্য

পরিবর্তিত বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত সেভেন ফোর সেভেনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং। গত ৬ ডিসেম্বর বোয়িং-এর অ্যাসেম্বলি লাইন থেকে বের হয় বিশ্বের সবশেষ জাম্বোজেটটি। বিশ্বের খ্যাতনামা কার্গো বহনকারী এয়ারলাইনস এটলাস এয়ারকে সরবরাহ করা হয় বিমানটি। এর আগে বিশ্বে তৈরি হয় ১ হাজার ৫৫০টি সেভেন ফোর সেভেন।

মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের বিমান যাত্রা সহজ করেছিল সেভেন ফোর সেভেন। প্রায় অর্ধসহস্র মানুষ বহনে সক্ষম এই বিমানটির আবির্ভাবে কমে এসেছিল বিমান ভাড়াও। আগে যেখানে বিমান ভ্রমণ ছিল অভিজাত ও ধনীদের বিলাসিতা, সেভেন ফোর সেভেনের আবির্ভাবে তা নাগালে আসে সাধারণ মানুষের। সব মিলিয়ে সেভেন ফোর সেভেন জাগরূক থাকবে এভিয়েশন প্রিয় মানুষের হৃদয়ের গহিনে।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url