আশ্রয়কেন্দ্রে লাখো মানুষ, নির্ঘুম রাত উপকূলবাসীর


October 25, 2022 at 01:03AM
from jagonews24.com | rss Feed

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাতের জোয়ারে উপকূলের নিচু এলাকার বসতঘরে পানি ঢুকেছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপেও চারপাশের ঘরগুলোতে কয়েক ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে।

ফলে নিরাপত্তার জন্য বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে মানুষ। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার পর থেকে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, জোয়ারের সময় পানি বাড়লেও তা শুধু নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। আমরা লোকজনকে সরিয়ে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। সরকারি দুটি আশ্রয়কেন্দ্রসহ বেসরকারি ভবন, ডাকবাংলো, সরকারি অফিসকে আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে। জোয়ারের পানি নেমে গেলে লোকজন যে যার বাড়ি চলে যাবে। কিন্তু এখন কাউকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হতে ‍দিচ্ছি না।

রাত দশটার দিকে চেয়ারম্যান আরও বলেন, এখন বাতাসের গতি কমে এসেছে। জোয়ারের পানিও নামতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় আমাদের মাঝে আতঙ্কও কমছে।

অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন উপকূল ও নিম্নাঞ্চলের লাখো মানুষ। সেখানে অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাতে কক্সবাজার থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করছে। সোমবার রাতের শেষ প্রহর বা মঙ্গলবার ভোরবেলায় এটি কক্সবাজারসহ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত বহাল রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, সোমবার দুপুর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০-৩৫ হাজার মানুষ ও ৩ হাজার গৃহপালিত পশু আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। শহরের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া ও নাজিরারটেক এলাকা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন সরিয়ে এনেছে কক্সবাজার পৌরসভা। তবে যানবাহন সংকটে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, সাগরের তীরবর্তী হওয়ায় এই এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বাস। সন্ধ্যা থেকে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। রাতে জোয়ারের পানি লোকালয়ে এলে বাকি লোকজনও আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষকে যানবাহনে করে আনা হচ্ছে। সবার জন্য খাবারসহ নানা প্রয়োজনীয় সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে পৌর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন টিমে ভাগ হয়ে দুর্গতদের আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে সহযোগিতা দিচ্ছেন।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া, নাজিরার টেক, কুতুবদিয়া পাড়া। এখানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লোকজনকে নিরাপদে সরাতে মাইকিং করেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য বোঝানো হয়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফ, পেকুয়া, কক্সবাজার সদরের পোকখালী, চৌফলদন্ডীর উপকূলীয় এলাকার লাখো মানুষ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাদের মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লোকজনকে সরিয়ে আনা হয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও কুতুবজোমসহ মহেশখালীতে অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিকেলের পর থেকে তাদের সরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে অনেককে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা জানান, কুতুবদিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সাত থেকে আট হাজার মানুষ। তাদের সরিয়ে নিতে বিকেল থেকে কাজ শুরু করেন জনপ্রতিনিধিরা। সন্ধ্যার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সব লোকজনকে সরিয়ে আনা হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুল হক চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সেন্টমার্টিনসহ কিছু নিচু এলাকায় পানি ঢুকেছে। তবে এ পর্যন্ত প্রাণহানি বা বড় ধরনের দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ঘটেনি। তারপরও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে। প্রস্তুত রয়েছে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র। মজুত আছে ১০ লাখ টাকা, ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করছে ১০ হাজার সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক ও ১০৮টি মেডিকেল টিম।

সায়ীদ আলমগীর/এমএইচআর


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url