৪ ঘণ্টায় উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করবে ‘সিত্রাং’

October 25, 2022 at 12:47AM
from jagonews24.com | rss Feed
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ সোমবার রাত ৯টায় ভোলার কাছ দিয়ে বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এটি তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাতে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-১১) আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ‘সিত্রাং’-এর মূল অংশের উপকূল অতিক্রম শুরু করার পূর্বাভাস দিলেও শেষের দিকে এটি গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আগেভাগেই উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত বহাল রয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং' আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অতি দ্রুত অগ্রসর হয়ে সোমবার রাত ৯টায় ভোলার নিকট দিয়ে বরিশাল চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে এবং পরবর্তী তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ (সাত) নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় সর্ব্বোচ্চ ৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৬ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। সেইসঙ্গে এসব এলাকায় ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় সর্ব্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দেশের অন্যান্য জেলায় ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফরিদপুর, ঢাকা, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, কিশেরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলার নদী বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর নৌ-বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
‘ঘূর্ণিঝড়, অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৮ ফুটের বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।’
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
আরএমএম/এমএইচআর