শোক-ভালোবাসায় চিরশায়িত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

September 20, 2022 at 07:12AM
from somoynews.tv | RSS Feed
বালমোরাল প্রাসাদে গত ৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের। এরপর স্কটল্যান্ড থেকে শুরু হয়েছিল শেষযাত্রা। মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে তার কফিন পৌঁছায় লন্ডনে। ১১ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে স্বামী প্রিন্স ফিলিপের পাশে সমাধিস্ত হলেন সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ সিংহাসনের অধিষ্ঠাত্রী এলিজাবেথ। এ সময় কেবল রাজপরিবারের সদস্যরাই উপস্থিত ছিলেন।
দিনটি শুরু হয়েছিল ওয়েস্টমিনস্টার হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রানির শায়িত অবস্থার উপসংহার টানার মাধ্যমে। কয়েক দিন ধরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সোমবার যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায়) ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষ এক শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন। যাদের মধ্যে ছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান। খবর বিবিসির।
১৯৫৩ সালের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অভিষেক অনুষ্ঠানে যে গানটি গাওয়া হয়েছিল, তার শেষযাত্রায়ও সেই গানটি গাওয়া হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে গির্জায় প্রার্থনার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
আরও পড়ুন: এক বর্ণিল জীবনের উপাখ্যান
ওয়েস্টমিনস্টারে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রানির কফিন একটি শবযানে রাখা হয়। ব্রিটিশ ঐতিহ্যের প্রতীক ওয়েলিংটন আর্চ হয়ে এটি যাত্রা করে উইন্ডসরের দিকে। এ সময় যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথ দল রানির কফিনে সম্মান (গার্ড অব অনার) জানায়। রানির কফিন নিয়ে তৃতীয় শোকমিছিলটি উইন্ডসরের দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে যায়।
সেখানে রাজকীয় সমাধিকক্ষে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মরদেহ নামানোর পর রানির স্মরণে আরেকটি প্রার্থনায় যোগ দেন প্রায় ৮০০ মানুষ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজপরিবারের সদস্যরা সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে যান। এরপর স্বামী প্রিন্স ফিলিপের পাশে সমাহিত করা হয় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে।
এর আগে সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে আনুষ্ঠানিকভাবে রানির কফিনের ওপর থেকে রাজমুকুট এবং রাজদন্ড সরিয়ে নেয়া হয়। এগুলো আবার টাওয়ার অব লন্ডনে ফেরত যাবে। রানিকে শেষ বিদায় জানাতে তার প্রিয় দুই কুকুর মিউক ও স্যান্ডিকেও উইন্ডসর প্রাসাদের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে আনা হয়।
নতুন সমাজব্যবস্থা আর প্রশ্নবিদ্ধ রাজতন্ত্রে বিশ্বজুড়ে ব্রিটিশদের প্রভাব যখন কমে আসছিল, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের অনেকের জন্য তখন এক ধ্রুবতারা হয়ে ওঠেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর উত্তাল সময়ে রাজতন্ত্র ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার সাফল্য ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। দৃঢ় কর্তব্যবোধ এবং সিংহাসন ও ব্রিটিশ জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার দৃঢ় সংকল্পই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়।
আরও পড়ুন: রানির মৃত্যু: ৫০০ ক্যারেটের সেই হীরা ফেরত চায় আফ্রিকা
রানির রাজত্বকালের শুরুর দিকে শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাজতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের যে আনুগত্য ছিল, শাসনামলের শেষ দিকে এসে তা অনেকটাই মলিন হয়ে যায়। কিন্তু ব্রিটিশ জনগণের হৃদয়ে স্নেহ ও শ্রদ্ধার জায়গা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।