চীনের ‘পুলিশি কূটনীতি’ স্বৈরশাসনকে উস্কে দিচ্ছে

June 10, 2022 at 05:09AM
from somoynews.tv | RSS Feed
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের আটটি দেশ সফর করছেন। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সলোমন দ্বীপপুঞ্জ থেকে তার এই সফর শুরু হয়। কিন্তু একটি গোপন নথি থেকে জানা গেছে, দ্বীপপুঞ্জটি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে ঘাঁটি গড়ার অনুমতি দেবে।
যদিও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, সেখানে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কোনো ইচ্ছা নেই চীনের। দুই দেশের মধ্যে চুক্তির উদ্দেশ্য হলো- সলোমন দ্বীপপুঞ্জকে তার পুলিশ বাহিনীর আইন প্রয়োগের সক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করা।
তাইপে টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিষয়টি ইউরোপ এবং আমেরিকার উদ্বেগের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করছে। চীন গত কয়েক বছর ধরে বিদেশে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে আগ্রহী। ২০০৫ সাল থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ বহুজাতিক মহড়া পরিচালনা করছে। ২০০৮ সাল থেকে এডেন উপসাগরে জলদস্যুতাবিরোধী টহলে অংশগ্রহণ করছে।
২০১৭ সালে পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে চীন প্রথম বিদেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। দুই প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময় করে থাকে। এক্ষেত্রে চীন সলোমন দ্বীপপুঞ্জে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে চাইলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আরও পড়ুন : চীন-সলোমন চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওয়াং-এর বক্তব্য হলো- চুক্তিটির লক্ষ্য ‘সলোমন দ্বীপপুঞ্জকে তার পুলিশি কার্যক্রম এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করা। এ ছাড়া সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সামাজিক নিরাপত্তা আরও ভালভাবে রক্ষা করতে সহায়তা করতে চায় চীন।
বছরের পর বছর ধরে চীন আফ্রিকা, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ‘পাবলিক সিকিউরিটি এবং পুলিশ এক্সচেঞ্জ’ নামে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। সামান্য খরচ বা বিনা খরচে তাদের হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার সহায়তা প্রদান করছে।
২০১১ সালে চীন, লাওস, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডের মেকং নদীর যৌথ টহল বাহিনী চীনের ইউনান প্রদেশে যৌথ সদর দফতর স্থাপন করেছে। চারটি দেশ অন্তত ১১৭টি যৌথ টহল পরিচালনা করেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে আইন প্রয়োগকারী চীনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই অঞ্চলে চীনের ব্যাপক প্রভাব এবং অনুপ্রবেশের সুযোগ তৈরি করে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে চীন-সলোমনের চুক্তি
তাইওয়ানের ‘ডাবলথিঙ্ক ল্যাব’ প্রকাশিত গত বছরের চীন সূচকে দেখা গেছে, বিশ্বের ৩৬টি দেশ এবং অঞ্চলের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীন সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। চীন যেসব দেশে পুলিশিং কার্যক্রম বিনিময়কে উৎসাহ দেয় তাদের অধিকাংশই স্বৈরাচারি দেশ, যেখানে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং তুলনামূলকভাবে অনুন্নত অর্থনীতি রয়েছে। প্রশিক্ষণের বিনিময়ে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে চীন উপকৃত হয়।
চীনের হুয়াওয়ে প্রযুক্তি এবং হ্যাংজু হিকভিশন ডিজিটাল প্রযুক্তির বিনিময়ে ইকুয়েডর পেট্রোলিয়াম দিয়েছে। এসব প্রযুক্তি ইকুয়েডরের সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং জনসাধারণের উপর নজরদারি বাড়াতে সক্ষম করে। ইরান ও বলিভিয়ার ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে চীন তার সামরিক ও পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের উপদেষ্টা হিসেবে পাঠায়। এর ফলে সেসব দেশে আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীনের মতো ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, জননিরাপত্তার ধারণাকে এভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ বিশ্বে খুব কমই সাড়া পেয়েছে। দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকায় তার প্রভাব বিস্তার করেছে। দেশটি ওইসব অঞ্চল ও দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সার্বভৌমত্বকে নষ্ট করছে। এছাড়া এই ধরনের কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্বৈরশাসকদের জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেয়।
]]>