ইউক্রেনের শিশুদের সঙ্গে এ কেমন আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের

April 21, 2022 at 04:59AM
from somoynews.tv | RSS Feed
অভিবাসী শিশুদের সঙ্গে নির্মম ও নিষ্ঠুর ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো রীতি। এবার বন্ধু দেশ ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের সঙ্গেও একই আচরণ করছে দেশটি। মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেই অভিভাবকদের কাছ থেকে শিশুদের আলাদা করা হচ্ছে। তাদের রাখা হচ্ছে আশ্রয়শিবিরে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে শুরু করে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকরা। প্রাণ হাতে নিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে প্রতিদিনই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছে তারা।
বুধবার (২০ এপ্রিল) জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে।
রিপোর্ট মতে, এদের বেশিরভাগই পূর্ব-ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এর মধ্যে কেউ কেউ নতুন করে বাঁচার আশায় সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব শরণার্থীর সঙ্গে নির্মম আচরণ করছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকার।
মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করছে এমন স্বেচ্ছাসেবকদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর অন্তত ৫০টি ঘটনা ঘটেছে যেখানে অভিভাবকদের কাছ থেকে শিশুদের কেড়ে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন : অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
এর ব্যাখ্যা দিয়ে সীমান্ত কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুপাচার রোধ করতে এক বা দুইদিনের জন্য অভিভাবকদের কাছ থেকে শিশুদের পৃথক করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, দুই-এক দিনের কথা বলে পৃথক করা হলেও সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলে গেলেও অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না শিশুদের। বরং তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে নির্মিত বন্দিশিবিরগুলোতে রাখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন মতে, এসব শিশুরা তাদের বাবা-মার সঙ্গে নয়, বরং তাদের বড় ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিবারের কোনো বন্ধুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। কিন্তু ইউক্রেনীয় বাবা-মারা যে তাদের সন্তানদের স্বেচ্ছায় আত্মীয়-স্বজনদের হাতে তুলে দিয়েছেন তার সব ধরনের নথি-পত্র রয়েছে। এরপরও অভিবাসীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
চলতি এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে ইউক্রেন থেকে ১৪ বছর বয়সী ভাগনে ইভানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান ইরিনা মেরেঝকো। কিন্তু ‘স্বপ্নের দেশে’ প্রবেশ করেই পড়েন মহাবিপদে। ইভানকে তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন : সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, আহত অন্তত ৪০
ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন মেরেঝকো। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিল, তাকে এক বা দুইদিনের জন্য আলাদা করা হচ্ছে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ইভানকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।’ এরপর অনেক চেষ্টা-তদবিরের পর মেরেঝকো জানতে পারেন যে, ইভানকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী এই নারী জানান, ইভানের মা ইউক্রেনেই রয়েছেন। কিন্তু তিনি তার ছেলেকে নিয়ে খুবই চিন্তিত। অল্পবয়সী ছেলেকে এভাবে পাঠানোর কারণে এখন অনুতাপ করছেন তার মা। একই ঘটনা ঘটেছে মলি সুরাজস্কির সঙ্গেও। ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর মেয়ে ১৭ বছর বয়সী লিজা ক্রাসুলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকায় ঢুকেছিলেন তিনি।
কিন্তু সীমান্ত পেরোনার সময় কিশোরী লিজাকে মলির কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। এটা ৩০ মার্চের ঘটনা। লিজাকে নিউইয়র্কের একটি আশ্রয়শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ পর তাকে তার অভিভাবক মলির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার আগে বহু ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয় মলিকে।