দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা ‌‘উইন্ড টানেল’


April 06, 2022 at 10:48PM
from jagonews24.com | rss Feed

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অনেক বছর খেলেছেন। পরে কোচিং করিয়েছেন উত্তরসূরী ডেল স্টেইন, মরনে মরকেলদের। সেন্ট জর্জেস পার্কের উইকেট হাতের তালুর মতোই মুখস্থ বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের।

এই মাঠেই শুক্রবার থেকে শুরু বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। কেমন হবে উইকেট? বোলারদের মনোভাব কেমন হবে? ব্যাটাররা কী রান পাবেন? ডোনাল্ড এই সব কিছুর উত্তর ভালো দিতে পারবেন। দিলেনও।

১৩৩ বছর পুরনো এই টেস্ট ভেন্যুতে কত কত স্মৃতি ডোনাল্ডের! ১৯৯২ সালের বক্সিং ডে টেস্টে এখানে প্রথমবার টেস্ট খেলেন ডোনাল্ড। সেবার ভারতকে বলতে গেলে একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে শিকার করেন ৫ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭টি।

প্রিয় ভেন্যুতে এসে কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন টাইগার দলের পেস বোলিং কোচ। ডোনাল্ড বলেন, ‘এটা দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে পুরাতন মাঠ। দারুণ ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ভেন্যু। এখানে আসতে ভালো লাগে। এখানে দর্শক হয়, অনেক শোরগোল থাকে। এই মাঠে অনেক দলের বিপক্ষে আমার ভালো অনেক স্মৃতি আছে। এটা এমন একটা উইকেট যেখানে ব্যাটার কিংবা বোলারের হাতে ম্যাচ থাকবে না আবার ছুটেও যাবে না। এই জায়গায় সবসময় কিছু না কিছু ঘটেই।’

সেন্ট জর্জেসের উইকেট সময় যত গড়ায়, ফ্লাট হয়। সেক্ষেত্রে টাইগার দলের বোলার বিশেষ করে পেসারদের মাথা খাটিয়েই বল করতে হবে, জানালেন ডোনাল্ড।

তিনি বলেন, ‘এই মাঠে বোলার হিসেবে ক্রিয়েটিভ হতে হবে আপনাকে। ইনিংস যত যাবে, ট্র্যাক ফ্লাট হতে থাকবে। ফাস্ট বোলিংয়ের কথা বললে, সাহস করে বল করতে হবে, ভিন্ন ভিন্ন জিনিস চেষ্টা করতে হবে।’

‘ডেল স্টেইন কয়েক বছর আগে এখানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেখিয়েছে, ফ্লাট পিচে যখন বল রিভার্স সুইং করতে থাকে, উইকেট পাওয়া যায়। তবে বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন হবে। এটা এমন একটি টেস্ট গ্রাউন্ড যার পরিসংখ্যান দেখলে আপনার মনে হবে আপনারও সুযোগ আছে বড় সেঞ্চুরি পাওয়ার’-যোগ করেন ডোনাল্ড।

পোর্ট এলিজাবেথে বাংলাদেশ দলের বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাতাস। ডোনাল্ড জানালেন, এখানকার মাঠ অনেকটা উইন্ড টানেলের মতো। তাই শিষ্যদের আগেভাগেই সতর্ক করে দিলেন পেস বোলিং কোচ।

ডোনাল্ড বলেন, ‘পোর্ট এলিজাবেথে একটি ব্যাপারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, তা হচ্ছে বাতাস। সাড়ে ১২টা থেকে ২টার মধ্যে প্রবল বাতাস আসে এখানে। দল হিসেবে আমরা সেটি নিয়ে কথা বলেছি। উঁচু ক্যাচ নেওয়া এখানে সত্যিকারের স্কিলের ব্যাপার। বাঁক খাওয়ানো ক্যাচ, লম্বা ক্যাচিংয়ের অনুশীলন অনেক করতে হবে আমাদের। জানতে হবে, কোন পাশ থেকে বাতাস আসছে। বিকেলের শেষভাগে স্কোরবোর্ডের দিক থেকে ৪০-৪৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস আসে। এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’

তিনি জানান, এখানে বাতাস ঘুরতেই থাকে, এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। ডোনাল্ডের ভাষায়, ‘এই মাঠ অনেকটা উইন্ড টানেল-এর মতো, স্কোরবোর্ড থেকে মাঠের ভেতর দিয়ে। এই বাতাস আবার ঘুরতে থাকে। বোলারদের কখনও মনে হয় বাতাসের অনুকূলে বোলিং করছে, হুট করেই আবারও মনে হবে বাতাসের প্রতিকূলে।’

এমএমআর/ইএ


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url