ইতালির উপকূলে রহস্যময় প্রমোদতরির মালিক কি পুতিন?
March 11, 2022 at 05:12AM
from somoynews.tv | RSS Feed
শেহেরজাদে। আরব্য রজনীতে এক রানির নাম। যিনি এক হাজার এক আরব্য রজনীতে একটি করে গল্প শুনিয়েছিলেন সম্রাটকে। শেহেরজাদে একটি সুরেরও নাম। রাশিয়ান সুর। খ্যাতনামা এক রুশ সুরকার তৈরি করেছিলেন। যা আজও জনপ্রিয় রাশিয়ায়। তবে এই আলোচনার বিষয় শেহেরজাদে রানি নন। সুরও নয়। যাকে ঘিরে ইতালির উপকূলে ক্রমে গাঢ় হচ্ছে রহস্য, সেটি একটি প্রমোদতরি বা ‘সুপার ইয়ট’।
দৈর্ঘ্যে দুনিয়ার সেরা এবং বড় প্রমোদতরির প্রায় সমান। দাম কম করেও ৭০ কোটি ডলার। আর ইতালির উপকূলের জাহাজকর্মীদের ফিসফাসে কান পাতলে শোনা যায়, এটির মালিক স্বয়ং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
গত এক বছরের কিছু বেশি সময় ধরে এই প্রমোদতরিটি ইতালির মারিনা ডি কারারা উপকূলে রয়েছে। মেরামতির কাজ চলছে। কিন্তু যারা সেই কাজ করছেন, তারা খুব অবাক হয়েছেন প্রমোদতরিটির মাত্রা ছাড়া গোপনীয়তায়।
ইতালির উপকূলে মেরামতির কাজে প্রায়শই বহু জাহাজ, প্রমোদতরি আসে। তবে শেহেরজাদেই একমাত্র, যাকে সাধারণের নজর থেকে আড়ালে রাখতে টানা হয়েছে ধাতব পর্দা।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, নো ফ্লাই জোন প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের
এমনকি শেহেরজাদের নাম গোপনে রাখারও যাবতীয় চেষ্টা করা হয়েছিল। জাহাজকর্মীদের কথায়, কোনো জাহাজ বা প্রমোদতরির নিরাপত্তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তার পুরোটাই করা হয়েছে শেহেরজাদের জন্য।
প্রমোদতরির সমস্ত কর্মীই রুশ। তবে চালক গাই বেনেট পিয়ার্স ইউরোপের মানুষ। প্রমোদতরির মালিকের খোঁজে কিছু ইতালীয় তদন্তকারী গিয়েছিলেন পিয়ার্সের কাছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেহেরজাদের মালিকানা কি রুশ প্রেসিডেন্টের?
পিয়ার্স তার স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। তদন্তকারীদের বলেছেন, তিনি নিজে অন্তত কখনও পুতিনকে এই প্রমোদতরিতে সওয়ারি হতে দেখেননি।
কিন্তু শেহেরজাদের মালিক কে? জবাবে পিয়ার্স বলেছেন, তার কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। নাম বলা হয়তো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে পিয়ার্স এ টুকু বলতে পেরেছেন যে, মালিক এমন কেউ নন, যার বিরুদ্ধে কোনো রকম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কেন অলিগার্কদের প্রমোদতরী জব্দ হচ্ছে?
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া যুদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই পুতিনের এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকাসহ পশ্চিমের দেশগুলো। যার জেরে ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই রুশ জাহাজ এবং প্রমোদতরির দখল নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সরকার। ফ্রান্সে রুশ প্রমোদতরি আমোরে ভেরোর দখলও নিয়েছে ফ্রান্সের সরকার। তবে কাকতালীয়ভাবে আমোরে ভেরো যে সংস্থার তৈরি, সেই ইম্পেরিয়ালই শেহেরজাদকেও তৈরি করেছে।
ইতালির তদন্তকারীরা তাই শেহেরজাদের পরিচয় জানতে ইম্পেরিয়ালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। তারা জানিয়েছে, শুধু আমোরে ভেরো বা শেহেরজাদে কেন, রাশিয়ার অধিকাংশ প্রমোদতরিরই নির্মাতা তারাই।
তবে কাদের জন্য সেই সব সুপার ইয়ট তৈরি করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তারা খুব গোপনীয়তা বজায় রাখে।
পুতিনের পাশাপাশি রাশিয়ার ধনকুবেরদের ওপরও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তালিকায় রয়েছে ধনকুবের ওলিগার্সের সংস্থা, রয়েছেন রুশ ইস্পাত শিল্পের প্রভাবশালী শিল্পপতি অ্যালেক্সেই মর্দাশভ, পুতিনের বন্ধু কোটিপতি তেল ব্যবসায়ী গেনাডি টিমচেনকো। এদের প্রত্যেকেরই প্রমোদতরির দখল নিয়েছে ইতালির সরকার। বাকি শুধু শেহেরজাদ। কিন্তু তার পরিচয় নিয়ে সংশয় কিছুতেই কাটছে না।
পুতিনের ইয়ট প্রেম সুবিদিত। পুতিনের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকের সময় সুযোগ হলে তা সাধারণত কোনো ইয়টেই আয়োজন করেন রাষ্ট্রপ্রধানেরা।
এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়া সফরে মোদির সঙ্গে পুতিনের বৈঠকও হয়েছিল ইয়টেই।
সেই ইয়টপ্রেমী রাজনীতিবিদের নিজের ইয়ট নেই! তা কি হতে পারে? পুতিন নিজে অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি ঠিক ততটা ধনী রাষ্ট্রপ্রধান নন। তার সম্পত্তি মেরে কেটে দেড় লাখ ডলারের। তা হলে ইয়ট কোথা থেকে আসবে?
যদিও পুতিনকে যারা সব সময় পর্যবেক্ষণ করছেন, তাদের দাবি, পুতিন অন্তত ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তির মালিক। আর তার অন্তত একটি প্রমোদতরি তো আছেই।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে বিপজ্জনক জীবাণু অস্ত্র তৈরি করছিল যুক্তরাষ্ট্র!
পুতিন পর্যবেক্ষকদের কথা মতো পুতিনের ছোট প্রমোদতরিটির নাম ‘গ্রেসফুল’। তবে তার সংগ্রহের সংখ্যা একাধিক হলে তার মধ্যে একটি ‘শেহেরজাদ’ও হবে কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি।
ইতালির জাহাজ কর্মীরা জানিয়েছেন, জাহাজের ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেই কারও। শেহেরজাদের ভেতরের সাজসজ্জা কেমন তাও জানার উপায় নেই।
যদিও সুপার ইয়ট বিশেষজ্ঞ একটি সংস্থা জানিয়েছে, প্রমোদতরিটির মূল্য কম করেও ৭০ কোটি ডলার।
সূত্র: আনন্দবাজার।