সেচ প্রকল্পের নালা ভরাট, ৭০ হাজার টন ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা


January 12, 2022 at 05:11AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন কাজে সেচ প্রকল্পের পুকুর (কুলিং রিজার্ভার) ও নালা ভরাট হওয়ায় ৭০ হাজার টন ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেচের পানির স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ শঙ্কা দেখা দেয়। এতে আবাদ করা যাবে না ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৩৪ হাজার কৃষক।

এ অবস্থায় চলতি রোবো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুকুর ও নালা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্যে আশুগঞ্জ সবুজ প্রকল্প রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।


এদিকে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে এ সংক্রান্ত একটি দাবি মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আশুগঞ্জ, সরাইল ও নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের জন্য ‘আশুগঞ্জ-পলাশ অ্যাগ্রো ইরিগেশন (সবুজ প্রকল্প) প্রকল্পের পানি ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে একর প্রতি ছয়-সাত হাজার টাকা জ্বালানি খরচের বিপরীতে ওই প্রকল্প থেকে পানি দিতে খরচ হয় এক থেকে দুই হাজার টাকা। যে কারণে সাশ্রয়ী এ প্রকল্পের উপর নির্ভর কৃষকরা।


আরও পড়ুন: পুলিশের বাধায় ছাত্র ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন পণ্ড


ভুক্তভোগী কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম জানান, গত ২০২০ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উন্নয়নের জন্য তাদের কুলিং রিজার্ভার পুকুরটির (বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত পানি যেখানে রিজার্ভ থাকতো) এর আংশিক অংশ ভরাট করে ফেলে। এরপর থেকেই মূলত সেচের সংকট দেখা দেয়। গত বছর থেকে আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হলে প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ১১টি কিলোমিটার নালার বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে যায়। এতে সেচ সংকট আরও ঘনীভূত হয়।


আরও পড়ুন: ভয় দেখিয়ে জমি দখল করল এমপি


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সবুজ প্রকল্প রক্ষা কমিটির আহবায়ক হোসাইন আহমেদ তফসির জানান, এ নিয়ে কৃষকরা আন্দোলনে নামলে প্রকল্পের জন্য স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমেও সেটি না হওয়ায় কৃষকরা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।


এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন জানান, সেচ নিয়ে সমস্যার কথা তিনি শুনেছেন। তবে চলতি মৌসুমে সেচ কাজে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না  উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বিঘ্নে কৃষি কাজ করতে সেচের পানির জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url