১৫ ডিসেম্বর: পাক বাহিনীর ব্যাপক বিপর্যয়, মুক্ত হয় চার জেলা


December 15, 2021 at 06:21AM
from somoynews.tv | RSS Feed

১৩-১৪ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধারা গাজীপুরে সেনা নিবাসে সম্মিলিতভাবে আক্রমণ চালায়। এতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পালিয়ে যাওয়া মনস্থ করে গাজীপুর এবং সমরাস্ত্র কারখানা ও রাজেন্দ্রপুর অর্ডিন্যান্স ডিপো থেকে পাকিস্তানি হানাদাররা ঢাকার পথে চান্দনা চৌরাস্তায় জড়ো হতে থাকে। উত্তরাঞ্চল থেকেও পাকিস্তানি সেনারা টাঙ্গাইল সড়কযোগে পিছু হটে চান্দনা চৌরাস্তায় একত্রিত হতে থাকে। পিছু হটার সময় তারা কড্ডা ব্রিজ ধ্বংস করে দেয়।

অন্যদিকে পিছু ধাওয়াকারী মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনী কোনাবাড়ি হয়ে কাশিমপুরে অবস্থান নেয়। ঢাকার পথে রওনা দেওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর কনভয়টি ছয়দানা এলাকায় পৌঁছলে কাশিমপুর থেকে মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনী তাদের উপর কামানও মর্টারের শেল নিক্ষেপ করতে থাকে। হতাহত হয় অসংখ্য পাকিস্তানি সেনা। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ঢাকার কাছে এটাই ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই হামলা। মুক্ত হয় গাজীপুর।

একই দিন সকালে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীকে হটিয়ে খাগড়াছড়ি দখল করে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছিল ৭ নং সেক্টরের অধীনে। ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনী যৌথভাবে পাকিস্তানি সেনা এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-সামস বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে হানাদার মুক্ত করে।

আরও পড়ুন : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১: হানাদারমুক্ত হয় বান্দরবান, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ

১৩ ডিসেম্বর দুপুরে মুক্তিবাহিনীর একটি দল খাদিমনগর এলাকায় এসে অবস্থান নেয়। একই দিন মুক্তিযোদ্ধাদের আরও কয়েকটি দল দক্ষিণ জালালপুর ও পশ্চিম লামাকাজিতে আসে। তখন ফাঁকা ছিল শুধু উত্তর দিক। কিন্তু সেদিকে সীমান্তবর্তী পাহাড়, বনাঞ্চল থাকায় দোসরদের পালাবার কোনো পথ ছিল না। কদমতলীর একটি ইটখোলা থেকে যাওয়া ২১ জন পাকিস্তানি সৈন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ৩৫ জনের মিত্র বাহিনীর একটি দল। ওই দলের সঙ্গে সেদিন মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক, গামা, আফরাইন, আব্দুল মতিন, ম আ মুক্তাদির, মনির উদ্দিন, ইশতিয়াক আহমদ, বেলায়েত হোসেন, বেলায়েত হোসেন খান, জামানসহ ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ওইদিন মোকাবেলা করেছিলেন শত্রুদের। প্রায় ৯ ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর নিরুপায় হয়ে পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেয়।

পরে ১৪ ডিসেম্বর সরকারি কলেজের আশপাশ থেকে শত্রুরা তাদের অবস্থান তুলে নেয়। সন্ধ্যায় চারদিক থেকে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর জওয়ানরা দলবদ্ধভাবে এবং স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে শহরে প্রবেশ করতে শুরু করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে সিলেট শহর। পাড়া-মহল্লা, অলিগলি পর্যন্ত এই খবর পৌঁছে যায়। জয় বাংলা, জয় বাংলা স্লোগানে ভারি হয় বাংলার মাটি। এই প্রেক্ষাপটে সরে যায় রাজাকার আলবদরদের পায়ের তলার মাটি। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা রাতেই গা ঢাকা দিতে শুরু করে। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর সকালে সকল বয়সী মুক্তিপাগল মানুষের ঢল নামে সিলেট শহরে। 
 

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url