বিচারক একা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না: প্রধান বিচারপতি
December 19, 2021 at 06:09AM
from somoynews.tv | RSS Feed
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নে বিচারক ও আইনজীবী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিচারক একা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। বিচারের সব পর্যায়ে আদালতের আইনজীবীদের সহায়তার প্রয়োজন হয়।
শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তন ও বিকাশের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই বিচারক ও আইনজীবী উভয়কেই তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।
সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি বিশ্বনন্দিত সংবিধান উপহার দিয়েছেন। এই সংবিধানে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব ও স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বিধৃত রয়েছে। রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তিনটি অঙ্গের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, দেশের বিচার বিভাগের বড় বড় অর্জন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে হয়েছে।
তিনি বলেন, গোটা বিচার ব্যবস্থা ডিজিটাইজ করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে আপন করে নিয়েছেন: আইনমন্ত্রী
করোনা পরিস্থিতিতেও প্রধান বিচারপতি জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিচার বিভাগকে সচল রেখেছেন। এজন্য প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মহামারিজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভার্চুয়ালি বিচার কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়। প্রথমে গত বছর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ করা হয়। পরে সেটি আইনে পরিণত করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের চলার পথ মসৃণ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর সে ঘটনার বিচারের পথ বন্ধে ইনডেমনিটি করা হয়েছিল। পিতা হত্যার বিচার দাবিতে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে আসার পর সুপ্রিম কোর্টে বহুবার এসেছেন। তখন তার ক্ষেত্রে বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কেঁদেছে। সেদিন সুপ্রিম কোর্টে উপলব্ধির প্রয়োজন ছিল যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও সংগ্রামে স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা। সে কারণে বিচারক পদে অনেকে বসতে পেরেছেন।
আনিসুল হক বলেন, সব অপচেষ্টাকে পেছনে ফেলে আজ বিচার বিভাগ সুদৃঢ় অবস্থানে। এটি শেখ হাসিনার অবদান। শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে আপন করে নিয়েছেন। বিচার বিভাগের উন্নয়নে শেখ হাসিনা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার শাসনামলে সুপ্রিম কোর্ট এনেক্সভবন নির্মাণ, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, আইন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের আইনগত ভিত্তিও শেখ হাসিনার শাসনামলে হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।
এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট দিবস উদযাপন সংক্রান্ত জাজেস কমিটির সভাপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা-সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
]]>