আমদনর পরও কন কমছ ন কচ মরচর দম?

July 08, 2023 at 07:55AM
from somoynews.tv | RSS Feed
কাঁচা মরিচের কেজি ছুঁয়েছিল ১ হাজার ২০০ টাকা, আবার দাম কমে কদিন আগে দেড়শ’ টাকাও হয়েছিল। আমদানির পর এক দফা দাম কমলেও; এখনও চড়া কাঁচা মরিচের বাজার। এত কিছুর পরেও কেন লাগাম টানা যাচ্ছে না মরিচের বাজারে, এ প্রশ্ন এখন সাধারণ ভোক্তাদের।
বাজার নিয়ন্ত্রণে গত ২৫ জুন থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। আমদানি অব্যাহত থাকলেও, দেশের বাজারে এখনও ঊর্ধ্বমুখী কাঁচা মরিচের দাম। আমদানি অব্যাহত থাকার পরও অস্বাভাবিকভাবে মরিচের দাম ওঠানামা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ক্রেতারা দুষছেন খুচরা বিক্রেতাদের, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন পাইকারি বাজারে দাম বেশি। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দোষ চাপাচ্ছেন আমদানিকারকদের ওপরে।
শুক্রবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানির খবরে চারদিন আগেও যে মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজিতে, তার দাম এখন প্রতিকেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা।
আরও পড়ুন: দেশে এসেছে ৫২৮ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ
বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম। তাছাড়া বাজারে দেশি মরিচের দেখা নেই বললেই চলে। শুধু ভারতীয় মরিচ দিয়ে চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। আমদানি আরও বাড়ানোর কথা বলছেন তারা।
আব্দুল হাকিম নামে এক বিক্রেতা জানান, দেশি কাঁচা মরিচ দিনকে দিন সোনার হরিণ হয়ে যাচ্ছে। বাজারে আসছে না। মূলত বর্ষাকাল হওয়ায় দেশি মরিচের সরবরাহ নেই।
বন্দরগুলোতে ঠিকমতো আমদানি হচ্ছে না জানিয়ে সবজি বিক্রেতা আসলাম বলেন,
আমদানিকারকরা ইচ্ছে করে পর্যাপ্ত আমদানি করছেন না। ঈদের ছুটির পর লোকসানের আশঙ্কায় হিলি বন্দর দিয়ে কয়েকদিন বন্ধ ছিল মরিচ আমদানি। নতুন করে এর প্রভাবে সারা দেশে আবারও দাম বেড়েছে মরিচের।
আরেক বিক্রেতা নাজমুল জানান, পাইকারি পর্যায়ে মরিচ কিনতে হচ্ছে ৩০০ টাকার ওপরে। এছাড়া পরিবহন খরচ রয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা।
আর পাইকারি ব্যবসায়ী আকমল বলেন,
আমদানি হলেও সেটি চাহিদার তুলনায় নগন্য। সরকার অনুমতি দিলেও, আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত আমদানি করছেন না। এতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে, ফলে দামও কমছে না।
তবে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে কাঁচা মরিচের দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। তারা বলেন, দেশে আমদানি অব্যাহত রয়েছে, তবুও দাম বাড়ছে। এর পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কাজ করছে।
আরও পড়ুন: আবারও বাড়ছে কাঁচা মরিচের বাজার
সাব্বির আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে কাঁচা মরিচের কোনো সংকট নেই। মরিচ ঠিকই আছে। কিন্তু সরবরাহ সংকটের অজুহাত দিয়ে দাম বাড়াচ্ছে বিক্রেতারা।
রায়হান ইসলাম নামে আরেক ক্রেতা বলেন,
আমদানির খবরে মাঝে দুইদিন কমেছিল মরিচের দাম। তবে এখন আবারও বাড়তে শুরু করেছে দাম। বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি না করার ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে মুনাফা করছে। আর পকেট কাটছে ভোক্তার।
এদিকে, ঊর্ধ্বমুখী কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ২৫ জুন মরিচ আমদানির অনুমতি দেয়। এর মধ্যে দুদিন আমদানির পর ঈদের কারণে বন্ধ ছিল মরিচ আমদানি। তবে ঈদের ছুটি শেষে রোববার (২ জুলাই) থেকে আবারও দেশে আসছে আমদানি করা কাঁচা মরিচ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আমদানির অনুমতি দেয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশে এসেছে ৫২৮.৫৮ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ। এর মধ্যে শুধু বৃহস্পতিবারই দেশে এসেছে ৫৪ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ। এছাড়া দেশে এখন পর্যন্ত ১৪৮টি আইপির বিপরীতে ৫১ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।
মরিচের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে আমদানিকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারতের বাজারে মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে বেশি পরিমাণে আমদানি করা যাচ্ছে না।
হিলি স্থল বন্দরের কাঁচা মরিচ আমদানিকারক ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী মিঠু বলেন,
বাংলাদেশে কাঁচা মরিচের ব্যাপক চাহিদা থাকার পরেও পর্যাপ্ত আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ভারতের মোকামেই মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যে মরিচ আমদানি হচ্ছে সেগুলো ভারতের বিহারের কাটিহার থেকে আসছে। বর্তমানে বিহারেই প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ভারতীয় টাকায় ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। এদিকে বন্দরে আমদানির পর ট্যাক্স পানামা খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে খরচ হয় ৪০ টাকা।
বন্দরের আরেকজন কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী বলেন,
ভারত থেকে মরিচ আমদানি করে বাংলাদেশে আসার পরে সব খরচ মিলিয়ে দাম দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ২৭০ টাকা। এত দাম দিয়ে মরিচ আমদানি করলে, দাম কমানো সম্ভব নয়। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে ভারতেই এখন মরিচের দাম বেশি।
এদিকে দেশের প্রান্তিক কৃষদের থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার মরিচের ফলন ভালো হয়নি। এতে করে কম মরিচ বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মাদারীপুরের কৃষক আব্দুর করিম বলেন,
এমনিতেই বর্ষাকালের শুরু থেকেই মরিচের ফলন কমে আসে। আবাদের পর দেখা যায়, সিংহভাগ মরিচ গাছই মরে গেছে। টিকে থাকা গাছগুলোতেও আশানুরূপ ফলন হয়নি। এতে করে খরচ ওঠাতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে মরিচ বিক্রি করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
আরও পড়ুন: আমদানির পরেও হিলিতে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম
তবে বাজার বিশ্লেষক কাজী আব্দুল হান্নান বলেন,
আমদানি মূল্য, সরকারি রাজস্ব ও পরিবহন ব্যয় সবমিলিয়েও মরিচের দাম ১০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত না। কিন্তু দেশে পাইকারি পর্যায়েই মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকার ওপরে। এতে খুচরা পর্যায়ে এটি গিয়ে ঠেকছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন সংকটের কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে মরিচ আসতে পারছে না। কারণ বেশিরভাগ ট্রাকগুলো বিভিন্ন বন্দর বা জেলা থেকে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে কাঁচা মরিচ আনছে। এতে পর্যাপ্ত মরিচ ঢাকায় আসছে না। ফলে দামও কমেছে না।
আমদানিকৃত পণ্যের বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা নেই উল্লেখ করে বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, কাঁচা মরিচের সংকট ঠেকাতে আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে আমদানিকৃত মরিচ বন্দর থেকে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত কোনো মনিটরিং করা হয় না। আমদানিকৃত মরিচ বন্দর থেকে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রসাশনিক নজরদারি জোরদার করতে হবে বলে জানান তারা।
]]>