তারা জানালেন ছিনতাইয়ের অভিনব কৌশল!

July 12, 2023 at 04:56AM
from somoynews.tv | RSS Feed
ব্যবসায়ী ছদ্মবেশ নিয়ে মার্কেটের কোন দোকান থেকে ব্যাংকে নগদ টাকা লেনদেন হবে এমন তথ্য সংগ্রহ করে তা দলের কাছে পাচার করতো একজন। এরপর টার্গেট করা ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার সময় তিন-চারজন করে দু' গ্রুপে ভাগ হয়ে রাস্তার মধ্যে নিজেরাই মারামারি শুরু করতো। এমন ঝামেলার মধ্যে ফেলে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ছিনতাই করতো এই চক্রটি।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরী থেকে ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর মামলা হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এরপর সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের চারজনকে গ্রেফতারের পর তারা এমন অভিনব নতুন কৌশলের কথা জানায় পুলিশকে।
গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন: মো. একরামুল আলম (৩৭), সাহেব হাসান মনা (২৪), মো. ইরফান ওরফে সাব্বির (২৪) ও রবিউল হোসেন ওরফে ইবু (২৩)।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) নগরের দামপাড়ায় সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের রয়েল টাওয়ারের সামনে থেকে ব্যবসায়ী নুর মো. ইয়াছিন কবিরের দুই কর্মচারীকে মারধর করে নগদ ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে রাতেই ওই ব্যবসায়ী বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসামিরা সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্র। তারা বড় বড় ব্যবসায়ীদেরকে টার্গেট করে এবং তাদের ব্যাংকিং লেনদেনের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। ব্যবসায়ীদের কে কখন কোন ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যান বা কে উত্তোলন করতে যান তাদেরকে টার্গেট করে গতিবিধি নজরদারিতে রাখে চক্রটি। একপর্যায়ে যে ব্যক্তি ব্যাংকে টাকা জমা দেয় বা উত্তোলন করে তাকে টার্গেট করে। সে পৌঁছানো মাত্রই মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাতে কোন পথচারী বাঁচানোর চেষ্টা না করে। মারামারির একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে সোনা ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক ৪
তিনি আরো বলেন, বাদী নুর মো. ইয়াছিন মোবাইল বিক্রয়ের ব্যবসা করেন। তার প্রতিষ্ঠানের এসআর মোরশেদ আলম ও সহকারী ম্যানেজার ত্রিদিব বড়ুয়া বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং লেনদেনের সব কাজ করে থাকেন। সেই হিসেবে গত ৯ জুলাই দুপুরের দিকে দুজনেই একটি লাল রংয়ের পুরাতন ব্যাগে প্রতিষ্ঠানের ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা সিটি ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। ওই সময় নগরীর জুবিলী রোডের রয়েল টাওয়ারের সামনের রাস্তায় পৌঁছামাত্রই অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আসামি তাদের দুইজনকে ধাক্কা দেয়। সহকারী ম্যানেজার ত্রিদিব বড়ুয়া ধাক্কা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আসামিরা তাদের এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও ছুরিকাঘাত করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ব্যাগভর্তি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
এরপরে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাই কাজে জড়িত আসামি সাহেদ হোসেন মনাকে শনাক্ত করে সোমবার নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা জানায়। পরে তার দেখানো মতে ছিনতাই করা টাকার মধ্যে ভাগে পাওয়া নগদ ৪০ হাজার টাকা বাসার স্টিলের ছোট আলমারির ভেতর থেকে জব্দ করা হয়। পররবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামি মো. একরামুল আলমকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদরঘাটের মাদারবাড়ি রাবেয়া ওয়ার্কশপের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, গ্রেফতার আসামি মনাসহ ৮/১০ জন মিলে ছিনতাইয়ের টাকা তার কাছে জমা দিয়েছে। তার মধ্যে কিছু টাকা মনাকে এবং আর কিছু টাকা ডাকাত দলের অন্য সদস্যদেরকে দিয়ে অবশিষ্ট টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়।
পুলিশের উপকমিশনার বলেন, পরে গ্রেফতার একরামুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হোটেল প্যারামাউন্টের কক্ষ থেকে নগদ ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই দুইজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা সৈন্যেরটেক এলাকা থেকে আসামি মো. ইয়াছিন ও মো. ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তারাও ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।