জলবদধতয় নকল বশলর জনজবন


July 02, 2023 at 06:17AM
from somoynews.tv | RSS Feed

দিনভর বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায়। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনগণসহ চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীদের জীবন।

শনিবার (১ জুলাই) পুরান ঢাকার বংশাল, আলুবাজার, সৈয়দ নসরুল ইসলাম সরণীসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

 

ঈদের তৃতীয় দিন আজ। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সারাদিন বৃষ্টিতে নাকাল জনজীবন। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতার।

 

সরেজমিনে পুরান ঢাকার বংশাল ও এর আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে বিপাকে পড়েছে এলাকার মানুষসহ, রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী ও যাত্রীরা। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে আছে।

 

স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই বংশালে পানি জমে যায়। ড্রেনের পানি উঠে যায় রাস্তায়। চলাচলে অনেক অসুবিধা হয়।

 

আরও পড়ুন: ঢাকায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি, বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা

 

সাজ্জাদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় থাকি। এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই এখানে চলাচল করা যায় না। আর মেইন রোডে বাস, প্রাইভেট কার চলাচল করলে পানি ছিটকে গায়ে এসে পড়ে। যেটি খুবই বিব্রতকর।

 

নয়ন নামে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে বলেও কোনো লাভ হয় না। তারা আশ্বাস দেন, কিন্তু কাজ হয় না। এছাড়া স্থানীয়রা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার কারণেও ড্রেনে ময়লা জমে যাচ্ছে। এতে বৃষ্টি হলে ময়লার পানি রাস্তায় উঠে আসে।

 

বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরা আসলাম হক নামে এক যাত্রী বলেন, বাড়ি থেকে মাংস নিয়ে ঢাকায় এসেছি। কিন্তু বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় বাসায় যেতে পারছি না। রাস্তায় আটকা পড়েছি। এতে মাংস নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় আছি।

 

ইঞ্জিনে পানি ঢুকে সিনএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ হয়ে গেছে হালিম মিয়ার। তিনি বলেন, রাস্তায় এত পানি জমছে যে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ির স্ট্রার্ট বন্ধ হয়ে গেছে। মেকানিককে ফোন দিয়েছি। গাড়ি ঠিক করার জন্য আসছে।

 

মোটরসাইকেল চালক আরাফ বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে বিপাকে পড়েছি। ভয়ে আগাতে পারছি না। মাঝ পথে যেয়ে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে বিপদে পরতে হবে। গাড়ি ঘুরিয়ে অন্যদিক দিয়ে যাব কিনা বুঝতে পারছি না।

 

রিকশাচলক তপন দাস বলেন, মামা সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজা রিকশা চালিয়েছি। এখন বাড়ি যাব। কিন্তু ময়লা পানি দিয়ে যেতে মন চাচ্ছে না। তাই বসে আছি। পানি একটু কমলে বাড়ি যাব।

 

আরও পড়ুন: রাজধানীর সড়কেই সাঁতার কাটছে শিশুরা

 

মুদি দেকানে চাল কিনতে আসা সুর্বণা সরকার বলেন, চাল কিনতে এসেছি। কিন্তু ময়লা পানির মধ্যদিয়ে কীভাবে যাব! চালের প্যাকেট ছিড়ে গেলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।

 

আনাস বেপারী নামে এক পথচারী বলেন, ময়লা পানির মধ্যদিয়ে গেলে চুলকানিসহ বিভিন্ন রোগ হয়। কিন্তু উপায় নেই। ঘরে ফিরতে হলে, এই পানির মধ্যদিয়েই যেতে হবে। জলবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান তিনি।

 

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি। এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য দ্রুত পক্ষদেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url