অপকষয় ছলন ম-বব ফরনন বছর ধর নখজ মতউর

June 30, 2023 at 10:58AM
from somoynews.tv | RSS Feed
দীর্ঘ ২১ বছর পর নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় ছিলেন বাবা সহিদুল ইসলাম ও মা মর্জিনা বেগম। দেশে ফেরার দিন তারিখও ঠিক হয়। কিন্তু কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় দেশে ফিরতে পারেননি মতিউর। এতে পরিবারে ঈদ আনন্দ যেন মাটি হয়ে যায়।
ঈদের দুইদিন আগে হিলি বর্ডার দিয়ে নিখোঁজ ছেলে ভারত থেকে বাড়ি ফিরবে এ নিয়ে সহিদুল ইসলাম দম্পতির পরিবারে ছিল বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ দিন পর হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পাওয়ার বিষয়টি ঈদে বাড়তি আনন্দ যোগ হয়েছিল।
কিন্তু ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশে মতিউরের কাগজপত্র ত্রুটি থাকায় দেশে ফিরতে পারেননি। আর সেকারণেই পরিবারে ঈদের আনন্দ পরিণত হয় কষ্টে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের দেবিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সহিদুল ইসলাম ও মর্জিনা বেগমের বড় ছেলে মতিউর রহমান ২০০২ সালে হারিয়ে যায়। তখন তার বয়স ছিল পনের বছর। মানসিক সমস্যা থাকায় মতিউর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় বলে জানায় পরিবার। এরপর থেকে অপর দুই সন্তান শামিমুর রহমান ও সাইফুন আক্তারকে নিয়েই দিন কাটাচ্ছিলেন তারা।
আরও পড়ুন: ঈদের দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরা হলো না আকুব্বরের
মাস ছয়েক আগে হঠাৎ এক ব্যক্তি ফোন করলে তারা জানতে পারেন, মতিউর জীবিত ও ভালো আছেন। সে ভারতের একটি সংগঠনের কাছে আছে। মঙ্গলবার (২৭ জুন) সকালে দিনাজপুর জেলার হিলি স্থল বন্দর হিলি বন্দর দিয়ে মতিউরকে নিয়ে আসার কথা ছিল সেই সংগঠনের সহকারী চিকিৎসক নিখিল শর্মার।
এমন খবরে সেদিন হিলি বর্ডারে অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে ফিরতে পারেননি মতিউর। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাগজপত্র ঠিক করে দ্রুত মতিউরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
আর পড়ুন: হিলি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মিষ্টি-শুভেচ্ছা বিনিময়
সহিদুল ইসলাম ও মর্জিনা বেগম জানান, মতিউর নিখোঁজ হওয়ার পর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরির পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজখবর করে না পেয়ে তার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন সে মারা গেছে। কিন্তু হঠাৎ তার খোঁজ পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করে।
‘মতিউরের ফেরার খবরে পরিবারের সবাই মিলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে হিলি বর্ডারে অপেক্ষা করেছি। আমরা সবাই ভেবেছিলাম ২১ বছর পর সন্তানকে ফিরে পাবো। সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবো। তাকে ছুঁয়ে দেখবে সবাই। কিভাবে ভারতে গেল জানা যাবে তার কাছে। সে ফিরলে ২১ বছর ধরে মায়ের ধুঁকে ধুঁকে কান্নার অবসান ঘটবে। কিন্তু ফিরতে না পারায় সর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তবে এখনো আসায় আছি ছেলে আমার ফিরবে’, যোগ করেন সহিদুল ইসলাম দম্পতি।
]]>