জ্বর হলেই ‘এনএস ওয়ান’ টেস্ট করার পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের


June 04, 2023 at 05:59AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ডেঙ্গু হয়েছে কি না তা জানতে জ্বর হলে শুরুতেই এনএস ওয়ান টেস্টটি করে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (৩ জুন) বিএসএমএমইউ’র শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত ‘চেঞ্জিং প্যাটার্ন অফ ডেঙ্গু সিনড্রম’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

 

উপাচার্য বলেন, প্রথম দিনেই ডেঙ্গু পরীক্ষা ‘এনএস ওয়ান’ পরীক্ষা করাতে হবে। শনাক্ত হলে এন্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল জাতীয় খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

 

শারফুদ্দিন বলেন, এ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ফলমূলসহ পানি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। ডেঙ্গু প্রথমবার হলে মৃত্যু হার কম কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার হলে মৃত্যুহার বেশি। যারা ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছেন তাদেরকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।

 

তিনি বলেন, চলতি বছরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। সাদা দাগযুক্ত এডিস মশা ডেঙ্গুর জন্য দায়ী। এই মশাকে চিনতে হবে।

 

তিনি আরও জানান, বমি, পাতলা পায়খানা, পেট ব্যাথা, শাসকষ্ট, শরীরে কোথাও রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মশারি ব্যবহার, বাচ্চাদের ফুল হাতা জামা পরানো, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু পরিস্থিতি: হাসপাতালে আরও ১৪১ রোগী

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাজ আজাদ বলেন, ডেঙ্গু ও কোভিডে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। উভয় রোগেই জ্বর, সর্দি, কাশির লক্ষণ দেখা যায়। এজন্য জ্বর হলেই ডেঙ্গু ও কোভিড পরীক্ষা করাতে হবে।

 

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু জ্বর ধরা পড়লে পর্যাপ্ত পানি জাতীয় খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

 

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগ প্রতিরোধে এডিস মশার নিধন, ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসার ক্ষেত্রে গাইডলাইন অনুসরণের পাশাপাশি রোগ ও রোগীর অবস্থাভেদে চিকিৎসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রথম প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ২০০০ সালে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ ছিল জ্বর, কাশি, র‌্যাশ হওয়া, মাথা ব্যথা হওয়া। কিন্তু ২০২১ সালের পর ডেঙ্গুর উপসর্গ পরিবর্তন হয়। তখন ডেঙ্গুতে নতুন উপসর্গ পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানায় পরিবর্তন হয়। এটি এখনো চলমান রয়েছে।

 

গত বছর ২০২২ সালে প্রায় ৬২ হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছিল, মারা গেছেন ২৮১ জন। এ বছর জুন-জুলাই আসার আগেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার কিন্তু এরই মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন। যারা ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছেন তাদের ডেঙ্গু সম্পর্কে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।

 

আরও পড়ুন: ঢাকায় বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দাবি চিকিৎসকদের

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের ডেঙ্গু চিকিৎসার জাতীয় নীতিমালার প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম। সেমিনার শেষে কেবিন ব্লকের সাধারণ জরুরি বিভাগে ডেঙ্গু কর্নারের উদ্বোধন করা হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ইমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশররফ হোসেন।

 

সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটু মিয়া, অধ্যাপক ডা. এমএ জলিল চৌধুরী, বিএসএমএমইউর ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও ডেঙ্গু গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাসার।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url