সিরাজুল আলম খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি

June 05, 2023 at 05:03AM
from somoynews.tv | RSS Feed
বাংলাদেশের রাজনীতির ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে পরিচিত সিরাজুল আলম খানের (দাদা ভাই) শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
রোববার (৪ জুন) সন্ধ্যায় আইসিইউ'র সামনে কথা হয় তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. রুবেলের সঙ্গে।
তিনি সময় সংবাদকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে নতুন ভবনের কেবিন থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। আইসিইউতে আনার পর একদিন তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়। তবে এখন লাইফ সাপোর্ট ছাড়াই রাখা হয়েছে।
রুবেল জানান, কথা বলতে পারছেন না তিনি। ইশারায় ইঙ্গিতে বুঝাচ্ছেন। মুখে খাবারও খেতে পারছেন না। নাক দিয়ে রাইস টিউব দিয়ে তাকে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক জানান, চারদিন আগে তাকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ৪র্থ তলায় জেনারেল আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য যেই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে সেই বোর্ডের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিরাজুল আলম খানের বয়স ৮২ বছর। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে সংক্রামণসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
গত ৭ মে থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। পরে ২০ মে তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে ২০২১ সালে অসুস্থ হয়ে কিছুদিন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
মান-অভিমান দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেকটা নির্বাসিত জীবন কাটানা সাবেক এ জাসদ নেতা। সিরাজুল আলম খান ঢাকার কলাবাগানে ভাইদের সঙ্গেই থাকেন।
স্বাধীনতালগ্নে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। পরে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারা। বঙ্গবন্ধুরও ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে ছিলেন এই ছাত্রনেতারা।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই দ্বদ্বের কারণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভেঙে দুই ভাগ হয়। এরপর ১৯৭২ সালে সিরাজুল আলম খানের উদ্যোগে রাজনৈতিক দল জাসদ প্রতিষ্ঠা হয়।
তিনি কখনও নেতৃত্বে না এলেও জাসদ নেতাদের পরামর্শক হিসেবে তাদের ‘তাত্ত্বিক গুরু’ হিসেবে পরিচিত। তাকে সবাই ‘দাদা ভাই’ নামেই ডাকেন।
সিরাজুল আলম খান কখনও জনসম্মুখে আসতেন না এবং বক্তৃতা-বিবৃতি দিতেন না; আড়ালে থেকে তৎপরতা চালাতেন বলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে পরিচিতি পান।
]]>