সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হাজারো পাথরভাঙ্গা শ্রমিক

May 18, 2023 at 04:58AM
from somoynews.tv | RSS Feed
পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় পাথর ক্রাসার মেশিনের বিকট শব্দ ও ধূলায় বিপর্যস্ত জনজীবন। ফলে স্থানীয়রাসহ কয়েক হাজার পাথরভাঙ্গা শ্রমিক মরণব্যাধি সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানায় তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাসুদ হাসান।
শ্রমিকর জানান, প্রতিদিনই পাথর ক্রাসার মেশিনে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কাজ শেষে বাড়িতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়। নিঃশ্বাসের পাশাপাশি কানে কম শোনা ও এলার্জির সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে।
ঝর্না বেগম নামে এক নারী শ্রমিক সময় সংবাদকে বলেন, প্রথম প্রথম এ কাজে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে এখন কিছুটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে দুই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
আজিমুল ইসলাম নামে আরেক শ্রমিক জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাথরের কাজ করতে হচ্ছে। দিন শেষে বাড়িতে গেলে শরীরে নানা সমস্যায় দেখা দেয়।
পাথর ক্রাসার মেশিন চালক আমানুল্লাহ জানান, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে এ কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তিনি। বর্তমানে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যার পাশাপাশি কানে কম শুনছেন। তবে অন্য কাজ না পাওয়ায় পরিবারের চাহিদা মেটাতে ঝুঁকি নিয়ে এ কাজ করতেই হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার ও পুরো এলাকায় প্রতিনিয়ত পানি ছিটানোর কথা থাকলেও এর তোয়াক্কা অনেকেই করছে না। এ সব বিষয়ে দেখভাল, তদারকি ও মেশিন স্থাপনের অনুমতির প্রক্রিয়ায় নির্বাহী বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিশেষত পরিবেশ অধিদফতরের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে। কিন্তু এর মূল দায়িত্ব কাদের সেটা স্পষ্ট নয়, তেমনি স্পষ্ট নয় দফতরগুলোর নিরবতাও।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল হাসান বলেন, সচেতনতা সৃষ্টিতে সবার দায়িত্ব রয়েছে। তবে রোগটি নতুন হওয়ায় মানুষ তেমন সচেতন নয়। তাই দেরি হওয়ার আগেই এ বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদফতর, সড়ক ও জনপথসহ প্রশাসনের দ্রুত কাজ করা উচিত।
পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলী বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কিন্তু শুধু অভিযান পরিচালনাই এর সমাধান না। মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সকলের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। ইতোমধ্যে পাথর ক্রাসিং জোন তৈরিতে পরিবেশ অধিদফতের সদর দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
আরও পড়ুন: কবর থেকে কঙ্কাল চুরি, মূলহোতা গ্রেফতার
এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাসুদ হাসান সময় সংবাদকে জানান, তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক পাথরের সঙ্গে যুক্ত থেকে সিলিকোসিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের অসচেতনাতার কারণে মাত্র ৫০ জন রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। অনেকেই হাসপাতালে না আসায় এর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না।
]]>