বাবার অভিষেক শেষে পুত্র হ্যারির নীরব-বিষন্ন প্রস্থান

May 08, 2023 at 07:32AM
from somoynews.tv | RSS Feed
জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অভিষিক্ত হয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের ১০০ রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বাদ যাননি রাজার কনিষ্ঠ পুত্র ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারিও। বাবার রাজ্যাভিষেকে যোগ দেওয়ার জন্য সূদূরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিলেন প্রিন্স হ্যারি। তবে আলো ঝলমলে অনুষ্ঠান শেষে বিদায় নিয়েছেন নীরবে, বিষন্ন বদনে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার (৬ মে) অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবের বাইরে রাখা গাড়িতে উঠেন প্রিন্স হ্যারি। এরপর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছান।
অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে তার ভাইদের চেয়ে দুই সারি পেছনে বসেন হ্যারি। সঙ্গে ছিলেন তার চাচাতো বোন প্রিন্সেস ইগুইন ও তার স্বামী জ্যাক ব্রুকসব্যাঙ্ক, চাচা ডিউক অব ইয়র্ক ও প্রিন্স অ্যান্ড্রু। তার বেশভূষা ছিলো খুবই সাদামাটা। স্যুট ও মেডেল পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে তাকে।
আরও পড়ুন:বেলকুনিতেও জায়গা হলো না প্রিন্স হ্যারির
অভিষেক অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ব্যাকিংহাম প্যালেসে ফিরে এসে প্রাসাদের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বসিত জনতাকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।
বেলকনিতে রাজা-রানির সঙ্গে প্রিন্স অব ওয়েলস ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস, প্রিন্স জর্জ, প্রিন্সেস শার্লট, প্রিন্স লুই, প্রিন্সেস অ্যান ও প্রিন্স এডওয়ার্ড, রানি ক্যামিলার নাতি-নাতনি এবং তাদের বর্ধিত পরিবারের কিছু সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে দেখা যায়নি ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারিকে। বিবিসির ধারণা, সমবেত জনতাকে সম্ভাষণ জানানোর জন্য ব্যালকনিতে যোগ দেয়ার জন্য হ্যারিকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।
রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ছেলে ও সিংহাসনের পঞ্চম উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারি রাজদায়িত্ব ছেড়ে তার স্ত্রী মেগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন। তারা নানা সময়ে রাজপরিবারের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছেন।
আরও পড়ুন:চার্লসের রাজ্যাভিষেকে প্রিন্স হ্যারি থাকলেও নেই মেগান
প্রিন্স হ্যারির লেখা বই স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার' প্রকাশের এই প্রথম রাজ পরিবারের সঙ্গে দেখা যায় তাকে।
হ্যারি ও মেগান দম্পতি ২০২০ সালে রাজপরিবার ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাকাপাকিভাবে থিতু হন। যুক্তরাজ্য ছাড়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে রাজপরিবারের অনেকটা দূরত্ব তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে, স্মৃতিকথা লিখে এ দম্পতি প্রাসাদের অনেক অজানা খবর ফাঁস করে দিয়েছেন। জন্ম দিয়েছেন বিতর্ক ও সমালোচনার।
প্রিন্স হ্যারির লেখা বই স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ তিনি তার জীবনের সব ঘটনা তুলে ধরেন। ওই বইতে হ্যারি উল্লেখ করেন, রাজপরিবারে ছোটবেলা অবহেলার শিকার হয়েছেন হ্যারি। ২০১৮ সালে মেগান মার্কেলের সঙ্গে বিয়ের পর তার স্ত্রীর ওপরও নির্যাতন চালায় রাজপরিবারের সদস্যরা। তারা মেগানের সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করতেন।
]]>