ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত

April 27, 2023 at 06:13AM
from somoynews.tv | RSS Feed
শব্দ দূষণের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে থেকে পরিবেশ অধিদফতর আয়োজিত শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
এতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় পুলিশ-প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর সহ সব বিভাগ অংশ নেয়।
উচ্চ শব্দের কারণে শারীরিক মানসিক বিভিন্ন ক্ষতিকারক দিক তুলে ধরা হয় পরিবেশ অধিদফতরের গবেষণা প্রতিবেদনে। পরে, শব্দ দূষণের ক্ষতিকারক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পর সম্মিলিতভাবে শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সব বিভাগ সম্মত হয়।
আরও পড়ুন: শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘পরিবেশ ক্যাডার’ নিয়োগের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
পরিবেশ অধিদফতরের ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক দিলরুবা আক্তার সময় সংবাদকে জানান, শব্দ দূষণের রোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে সব বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করার মাধ্যমে রাস্তায় শব্দ দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুল ইসলাম ফকির সময় সংবাদকে জানান, নগরীর রাস্তায় হাইড্রোলিক হর্নের উচ্চ শব্দ মানুষের শ্রবণ শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে যা আইনত নিষিদ্ধ। হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো বদ্ধে রাস্তায় মনিটরিং করছে পুলিশ। সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে পুলিশ জরিমানা করার পাশাপাশি গাড়ি থেকে হর্ন খুলেও নেন বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সব বিভাগকে কাজে লাগিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা জানান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা শব্দদূষণ: নগরবাসীর ভবিষ্যৎ কী?
তিনি বলেন, শব্দ দূষণের ফলে মানুষের নানা শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে, বিশেষ করে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উচ্চ শব্দে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও উদ্বেগজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘসময় অতিরিক্ত শব্দের কারণে হাইপারটেনশন, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, স্নায়ুর সমস্যাসহ মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া, উচ্চ শব্দের মধ্যে দীর্ঘদিন থাকলে শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৭০ ডেসিবল মাত্রা পর্যন্ত শব্দ মানুষের কান সহজে গ্রহণ করতে পারে। ৮০ ডেসিবলের বেশি হলেই তা ক্ষতি শুরু হয়।
পরিবেশ অধিদফতরের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্রাতিরিক্ত উচ্চ শব্দের কারণে দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি কমে গেছে। রাস্তায় বিভিন্ন গাড়ির হর্ন, নির্মাণকাজ, বিভিন্ন ধরনের মাইকের ব্যবহার, শিল্প ও কল কারখানার মাধ্যমে শব্দদূষণ হয় সবচেয়ে বেশি।