ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে?


February 28, 2023 at 06:05AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ইন্টারনেটে যে তথ্য বা ভিডিও খুঁজছেন তা গুগল ডাটা সেন্টার থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মানুষের হাতের নাগালে এসে পৌঁছেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এতো দূরের ডাটা সেন্টার থেকে কিভাবে মোবাইল বা ল্যাপটপে ভিডিওটি চলে আসলো?

কিভাবে পুরো বিশ্বে তথ্য বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, কিভাবে ইন্টারনেট কাজ করছে, আর ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া কী?

ইন্টারনেট কী?

প্রথমেই জানতে হবে, ইন্টারনেট বা অন্তর্জাল আসলে কী? এটি মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অগণিত কম্পিউটার ও ডিভাইস সমূহের মধ্যে আন্তঃসংযুক্ত একটি নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত, পরস্পরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার ও ডিভাইস নেটওয়ার্কের সমষ্টি হলো ইন্টারনেট, যা সবার জন্য উন্মুক্ত একটি নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা। ভিনটন গ্রে কার্ফকে বলা হয় ইন্টারনেট এর জনক। তখন এর নাম ছিল 'আর্পানেট'।

পৃথিবীর সব কম্পিউটার কিভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত?

পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটারগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করার জন্য এক ধরনের মজবুত ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। ইন্টারনেট সমুদ্রের নিচে বিস্তৃত প্রায় 8 লক্ষ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল দিয়ে পুরো পৃথিবী কে সংযুক্ত করে রেখেছে জালের মত। এই অভিনব যোগাযোগ ব্যবস্থা সর্বপ্রথম আবিষ্কার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত এর মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন বন্ধ না হয়ে যায় এই কারণে 'মিলনেট' নামক একটি কোম্পানি ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করে। তবে বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু হয়।

ইন্টারনেটের ঠিকানা

ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের একটি নিজস্ব ঠিকানা থাকতে হবে, যা আইপি নামে পরিচিত। এর অর্থ ইন্টারনেট প্রোটোকল। প্রত্যেকটা কম্পিউটার কানেকশন এর জন্য আলাদা হয়।

নেটওয়ার্কিং অবকাঠামো

ধরুন একজন প্রেরক তার বার্তা পাঠাবেন প্রাপকের কাছে। তিনি কি করবেন, প্রথমে একটা চিঠি লিখবেন,পরে এটি খামে ভরে যে ঠিকানায় পাঠাবেন সেই ঠিকানাটা খামের উপর সুন্দরভাবে লিখে একটা পোস্ট অফিস এ গিয়ে জমা দিবেন। তারপর পোস্ট অফিস একজন পোস্ট ম্যানের মাধ্যমে সেই ঠিকানায় প্রাপকের কাছে চিঠি পৌঁছে দিবে। ইন্টারনেট মূলত এভাবেই কাজ করে, কিভাবে? এই চিঠিতে যা লেখা হয়েছে তা হলো ডাটা। প্রেরক যে পোস্ট অফিস থেকে চিঠিটা পোস্ট করেছেন সেটা হল তার আইপি বা প্রেরকের ঠিকানা। পোস্ট অফিস থেকে খামে উল্লেখ করা প্রাপকের ঠিকানায় যে চিঠিটা পৌঁছে দেয় সে হলো পোস্ট মাস্টার আর এই পোস্ট মাস্টারই হলো ইন্টারনেট এবং যে ঠিকানায় চিঠিটা পৌঁছানো হলো সেটা হলো প্রেরকের সাথে সংযুক্ত আইপি অ্যাড্রেস বা ঠিকানা।

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে?

ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত আন্তঃসংযুক্ত ডিভাইসগুলোর মধ্যকার বিভিন্ন ধরনের ডাটা ও মিডিয়া আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম। প্যাকেট রাউটিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইন্টারনেট কাজ করে, যা ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) ও ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রোল প্রটোকল (টিসিপি) এর মাধ্যমে সংযুক্ত। টিসিপি ও আইপি একইসাথে এটি নিশ্চিত করে যাতে বিশ্বের যেকোনো কেন্দ্র থেকেই যেকোনো ডিভাইসে ইন্টারনেট নিরবিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। ইন্টারনেট এর মাধ্যমে ডাটা প্যাকেট ও মেসেজ আকারে প্রেরিত হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো ডাটাকে মেসেজ বলা হয়, যা প্রেরণের আগে ছোট ছোট অংশ বা প্যাকেটে পরিণত হয়। এই মেসেজ ও প্যাকেটসমুহ এক সোর্স থেকে অন্য সোর্সে আইপি ও টিসিপি ব্যবহার করে ট্রাভেল করে। আইপি হলো মূলত কিছু সিস্টেম এর কিছু নিয়ম যা এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডাটা প্রেরণের সময় তা মনিটর করে।

ইন্টারনেটের সঠিক ভাবে কাজ করার জন্য একে নিজস্ব গ্লোবাল নেটওয়ার্কের তার কিংবা বেতার যেকোনো একটির  মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েই থাকতে হবে। এরপর গ্লোবাল নেটওয়ার্কে জড়িত থাকা বিভিন্ন কম্পিউটারের সাথে নিজেদের কম্পিউটার রাউটার এবং সার্ভারের মাধ্যমে কানেক্ট হয়ে বিভিন্ন ডাটা এবং ইনফর্মেশন সংগ্রহ করে নেয়। এভাবেই কাজ করে ইন্টারনেট।

ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস

ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে আগে ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস করতে হবে। প্রশ্ন হলো কিভাবে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে পারি? মূলত ২ ভাবে এটি সম্ভব।

প্রথমত, অপটিক্যাল ক্যাবল এর মাধ্যমে। অর্থাৎ ওয়াইফাই, মডেম, ডায়াল আপ ইত্যাদি, যেটা মূলত সাবমেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সংযুক্ত। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৯ ভাগ ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত।

এছাড়া আরও একটি উপায় হলো, স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে। এর প্রসেসে বর্তমানে শতকরা ১ ভাগ ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত রয়েছে। ইন্টারনেটের কাজ করার জন্য ৩টি ডিভাইসের প্রয়োজন।
একটি ডিভাইস, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার চালু থাকবে।

আরও পড়ুন ইন্টারনেট দুনিয়ার ভবিষ্যৎ মেটাভার্স

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইপি, যেটি থেকে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করা যাবে। আর একটি ওয়েব ব্রাউজার বা অ্যাপ্লিকেশন। যেমন গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স ইত্যাদি। আর এই ব্রাউজার ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে পুরা পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটারের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে।

আরও পড়ুন টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব?

ইন্টারনেটের কি আশীর্বাদ না অভিশাপ?

বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যবহার মানুষের জীবনে এতোটাই বেড়ে গিয়েছে যে ইন্টারনেট বন্ধ থাকাকে অনেকে দম বন্ধ থাকার সাথেও তুলনা করে। অনেকে আবার এর ব্যবহারের অধিকারকে রীতিমতো মানবাধিকার হিসেবে গণ্য করে। ইন্টারনেট নিঃসন্দেহে মানবজাতির জন্য একটি আশীর্বাদ। মেসেজিং, ভিডিও ও অডিও কলিং ফিচারযুক্ত প্ল্যাটফর্মের বদৌলতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ হয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন।  শক্তিশালী সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যেকোনো তথ্য থাকে হাতের নাগালে। কিন্তু অনেকেই এর ক্ষতিকর দিকগুলোকেই বড় করে দেখেন। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনা আনার পাশাপাশি সচেতন হতে হবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে।

 

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url