পাকিস্তানের চলমান সংকট ভ্রান্তনীতির ফসল

February 16, 2023 at 05:20AM
from somoynews.tv | RSS Feed
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে চলা পাকিস্তানে জেনারেল অসীম মুনীর সেনাপ্রধান হওয়ার পর থেকে দেশটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সন্ত্রাসী হামলা অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জন্য দেশটির নীতি গঠনে দুর্বলতা আর সন্ত্রাসবাদে ক্ষমতাসীনদের সমর্থনকে দায়ী করছে ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর রাইটস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ইফরাস)।
সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, গত তিন মাসে টিটিপি ও এর সদস্যরা ১৬০টি হামলা চালিয়েছে, যাতে শতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে। এটি সন্ত্রাস মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও শোচনীয় পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।
পাকিস্তানের পেশওয়ারে পুলিশ লাইন মসজিদে আত্মঘাতীর বোমা হামলার ঘটনা তুলে ধরে কানাডার টরেন্টোভিত্তিক স্বাধীন থিংক ট্যাংক ইফরাস দাবি করেছে, ওই ঘটনায় ১০৩ জন পুলিশ সদস্যের প্রাণ গেছে; আহত হয়েছে দুইশোর বেশি। নৃশংস সেই হামলা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করেছে।
দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য ওই হামলা চালানো হয়।
আরও পড়ুন : পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র নয়, ‘সুপার কিং’ বাজওয়া দায়ী: ইমরান
বলা প্রয়োজন, দুই দশক পর আফগানিস্তানের কাবুল ফের তালেবান দখল করলে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন অভিজাতরা বিষয়টিকে উদযাপন করেছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রকাশ্যে আফগান জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, দেশটিতে দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙেছে তালেবানরা।
ওই সময় ইন্টারসার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল ফয়েজ হামিদ কাবুলের সেরেনা হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘চিন্তার কিছু নেই; সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, যা আজ সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হচ্ছে।’
আরও পড়ুন : সন্ত্রাসবাদ নিয়ে জয়শঙ্করের বক্তব্যে ক্ষেপেছে পাকিস্তান
ইফরাসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফয়েজ হামিদ ইসলামাবাদ এবং এর আশেপাশের এলাকাসহ খাইবার পাখতুনখোয়ার ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টিটিপি সদস্য ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের মাস্টারমাইন্ড। একইসঙ্গে কাবুল পতনের মাসখানেক আগে পার্লামেন্টে এক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব বলেছিল, ভালো তালেবান বা খারাপ তালেবান নিছকই একটি কল্পকাহিনী।
নীতি প্রণয়নের এই ব্যাপক ত্রুটি এবং উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তানের সমর্থনের ফলে দেশটিকে ধ্বংসযজ্ঞকে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও অন্তত ৪০ থেকে ৫০ বছর লেগে যাবে।
]]>