ফ্রান্সে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আশ্রয় আবেদন বাংলাদেশিদের

January 19, 2023 at 07:01AM
from somoynews.tv | RSS Feed
ফ্রান্স সরকারের বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয় প্রদান সম্পর্কিত দপ্তর (অফপ্রা) ২০২২ সালে দেশটিতে আশ্রয় চেয়ে আবেদনের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় দেখা গেছে, গত বছর ফ্রান্সে আশ্রয় চেয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে আফগানিস্তান থেকে, তার পরেই আছেন বাংলাদেশিরা।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) ফ্রান্সে আশ্রয় আবেদনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীনদের জন্য নির্ধারিত ফরাসি দপ্তর (অফপ্রা)।
প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২২ সালে মোট ১ লাখ ৩১ হাজার জন ফ্রান্সে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। তবে এর মধ্যে প্রথমবারের মতো আশ্রয় আবেদন করেছেন এক লাখ ১৪ হাজার ৭১০ জন৷ বাকিরা পূর্বের আবেদন সক্রিয় করেছেন।
কোভিড ১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ফ্রান্সে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছিল। ২০২২ সালের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা করোনা মহামারির আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের পরিসংখ্যানের কাছাকাছি।
২০২১ সালের মতো ২০২২ সালেও সর্বোচ্চ আশ্রয় আবেদনকারী আফগানরা। মোট ১৭ হাজার আফগান গত বছর ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো সুরক্ষা চেয়েছেন। এই সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে অফপ্রা। আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের কারণে দেশটির নাগরিকদের দেশ ত্যাগের হার বেড়েছে।
আরও পড়ুন: অবৈধ অভিবাসীদের সুখবর দিল ফ্রান্স
অপরদিকে, আট হাজার ৬০০ আবেদন নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বাংলাদেশিরা। ২০২১ সালে ছয় হাজার ২০০টি আবেদন নিয়ে যৌথভাবে আইভরি কোস্টের সাথে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ও সুরক্ষা চাওয়ার হারও বেড়েছে।এ ছাড়া ৮ হাজার ৫০০ নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছে তুরস্ক। চতুর্থ অবস্থানে থাকা জর্জিয়ানরা ৮ হাজার ১০০টি আবেদন করেছেন।
শীর্ষ আবেদনকারী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র আফ্রিকান দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। দেশটির নাগরিকেরা গত বছর ফ্রান্সে ৫ হাজার ৯০০টি প্রথম সুরক্ষা আবেদন করেছেন।
ইতিবাচক সিদ্ধান্ত মাত্র ২৯ শতাংশ
২০২২ সালে অফপ্রা আগের বছরের আবেদনসহ মোট এক লাখ ৩৪ হাজার ৫০০টি আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। শতকরা হিসেবে আবদনের পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের হার এক্ষেত্রে ২৯ শতাংশ।
প্যারিস অঞ্চলে অবস্থিত অফপ্রার স্থায়ী কার্যালয়, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ১৮টি বিশেষ কার্যক্রম, ফরাসি মূল ভূখন্ডের বাইরে অবস্থিত প্রশাসনিক অঞ্চলগুলোতে ১১টি কার্যক্রমের মাধ্যমে এত বিপুল সংখ্যক আবেদনের সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম হয়েছে অফপ্রা।
আরও পড়ুন: আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চলমান অভিবাসী চাপের কারণে ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে ১০টি আলাদা সফর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে ২৬টি সফরও এত সিদ্ধান্ত দিতে ভূমিকা রেখেছে বলে অফপ্রার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আওতায় শরণার্থী মর্যাদা কিংবা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পেতে সক্ষম হয়েছেন কিনা সেটি জানানো হয় অফপ্রার সিদ্ধান্তে।
ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পেতে ব্যর্থ হওয়া আশ্রয়প্রার্থীরা চাইলে ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত সিএনডিএ-তে আপিল আবেদন করতে পারেন।
বিপুল সংখ্যাক আশ্রয়প্রার্থী প্রথমবারের মতো অফপ্রায় সুরক্ষা আবেদন চাইলেও মোট সুরক্ষা আবেদন প্রদানের হার মাত্র ২৯ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় তিন শতাংশ বেশি।