চোখের জলে রোনালদোর বিদায়

December 11, 2022 at 06:17AM
from somoynews.tv | RSS Feed
স্বপ্ন পূরণ হলো না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়ে যায় স্বপ্নের বিশ্বকাপ। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মঞ্চে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। বহু যুদ্ধে দলকে রক্ষা করা রোনালদো পারলেন না বেঞ্চ থেকে নেমে দলকে উদ্ধার করতে। মরক্কোর বিপক্ষে এক গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। দলের হারে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ৩৭ বছর বয়সী এ কিংবদন্তী।
কে জানতো মরক্কো এমন চমক দেখাবে বিশ্বকাপে! বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, কানাডার গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোয় পা রেখেই চমকে দিয়েছিল হাকিম জিয়েশ-আশরাফ হাকিমিরা। কিন্তু সেখানেই থামেনি রূপকথার গল্প। শেষ ষোলোয় প্রতিবেশী স্পেনের পর কোয়ার্টার ফাইনালে আইবেরিয়ান উপদ্বীপের আরেক দেশ পর্তুগালও বধ হলো জিব্রাল্টারের ওপারের মরক্কোর কাছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনার তালিকায় নিশ্চয়ই থাকবে কাতার বিশ্বকাপে অ্যাটলাস লায়নদের গল্পটা।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হয়ত ২০২২ সালটাকে ভুলে যেতে চাইবেন। ইতিহাসের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত ফুটবলার যে এক মৌসুমেই হারিয়ে ফেলেছেন নিজেকে। হারিয়েছেন ক্লাবের জায়গা। পর্তুগালের বন্ধ্যা ফুটবলে দিয়েছেন উর্বরতা। ২০১৬ ইউরোতে পর্তুগালকে এনে দিয়েছিলেন ইতিহাসের একমাত্র বৈশ্বিক শিরোপা। সেই পর্তুগাল দলের একাদশেও জায়গা হারিয়েছেন তিনি। দারুণ ক্যারিয়ারের শেষটা আরও সুন্দর হতে পারত, কিন্তু ফুটবল বিধাতা হয়ত সাফল্যে মোড়ানো ক্যারিয়ারের শেষটা রঙিন করতে দেয়নি।
আরও পড়ুন:রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিতে মরক্কো
অথচ কাতার বিশ্বকাপে পর্তুগাল এসেছিল স্মরণকালের সেরা দল নিয়ে। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াস, জোয়াও ফেলিক্স, রাফায়েল লিয়াওদের উত্থানে পর্তুগাল অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবেই কাতারে পা রেখেছিল। শেষ ষোলোয় সুইসদের বিপক্ষে গনসালো রামোসের পারফরম্যান্সের পর তো সিআর সেভেন যে বিশ্বকাপের বাকি সময়টা আর প্রথম একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না, নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তা। তবে সব আয়োজন ব্যর্থ। অ্যাটলাস লায়নদের দুর্ভেদ্য রক্ষণ টলাতে পারেই পর্তুগালের সোনালী প্রজন্ম। বাধ্য হয়ে কোচ ফার্নান্দো সান্তোস নামিয়েছিলেন বহু যুদ্ধে তাকে বাঁচানো পুরনো সেনাপতি রোনালদোকেই। তবে পারলেন না তিনিও।
বিশ্বকাপ শিরোপাটা এনে দিতে না পারলেও পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর যা অর্জন তা তার অমরত্ব! সেটা নিশ্চিতভাবে বলাই যায়। ২০০৩ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর ২০০৪ সালের ইউরোতে ফাইনাল খেলেন পর্তুগালের হয়ে। সেবার গ্রীসের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় পর্তুগালের। অশ্রুসিক্ত ১৮ বছরের রোনালদো সেদিন না পারলেও ১২ বছর পর ২০১৬ সালে ইউরো শিরোপাটা এনে দিয়েছিলেন দেশকে।
আরও পড়ুন:প্রথম আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে মরক্কো
পর্তুগালের হয়ে পাঁচবার খেলেছেন বিশ্বকাপ। ২০০৬ সালের আগে মাত্র চারবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারা পর্তুগাল রোনালদোর উত্থানের পর আর কখনোই অনুপস্থিত ছিল না বিশ্বকাপে। ফিগো, রুই কস্তা, ডেকোদের প্রজন্মের বিদায়ের পর বলতে গেলে একাই টেনেছেন সেলেসাওদের। প্রতিটি বিশ্বকাপে পর্তুগিজদের ঝাণ্ডা বয়ে নিয়েছেন নিঃসঙ্গ নাবিকের মতো। বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার মতো দল কখনোই পাননি তিনি। তবে সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়েছেন মাদেইরার সন্তান।
পাঁচ বিশ্বকাপে ২০ ম্যাচ খেলে ৮ গোল করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে এসে খালি হাতে বিদায় নিলেন। পেছনে পড়ে থাকল কোমল সবুজ ঘাসের মাঠ। যেখানে ইতিহাস গড়ে আনন্দে মাতোয়ারা মরক্কো। ফুটবলমাঠে একই সঙ্গে কাঁদছে বিজয়ী আর বিজিত। কেউ আনন্দের, কেউ বিদায়ের।