জঙ্গি সম্পৃত্ততার অভিযোগে আটক সেই চিকিৎসক চাকরিচ্যুত

November 16, 2022 at 06:15AM
from somoynews.tv | RSS Feed
কিশোরগঞ্জে জঙ্গি সম্পৃত্ততার অভিযোগে আটক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. মির্জা কাউসার (২৮) কে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আ ন ম নওশাদ খান মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে সময় সংবাদকে বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ডা. কাওসার আমাদের মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছে। এরপর সে ইএনটির চিকিৎিসক হিসেবে কাজ করছিল। কয়েক মাস আগে ফার্মাকলজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেয়। তিনি শুরু থেকেই তাবলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানি। তার স্ত্রীও একই হাসপাতালের চিকিৎসক।
অধ্যক্ষ নওশাদ খান জানান, কাওসারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তাই তাকে প্রভাষকের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের খরমপট্টি এলাকায় মেডিক্স কোচিং সেন্টার থেকে ডা. কাউসারকে আটক করে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পরিবার ও মেডিকেলে কলেজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। রাতেই তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। পরদিন জানা যায় তাকে জঙ্গি সম্পৃত্ততায় আটক করা হয়েছে।
ডা. মির্জা কাউসার জেলার বাজিতপুর উপজেলার উজানচর গ্রামের মির্জা আবদুল হাকিমের ছেলে। তিনি প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রভাষক। শহরের খরমপট্টি এলাকায় মেডিক্স নামে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন তিনি। থাকতেন খড়মপট্টি বায়তুল আমান মসজিদের পেছনে একটি ভাড়া বাসায়।
আরও পড়ুন: জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে জামায়াত আমিরের ছেলে গ্রেফতার
গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র মতে গ্রেফতার মির্জা কাউসার নিজের পরিচয় গোপন করে নানা ছদ্মনামে জঙ্গি কার্যক্রম চালাতেন। কখনও মির্জা কাউসার আবার কখনও আব্দুল কাদের এবং সোবাহান নাম ব্যবহার করতেন।
প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ পাশে আনসার হাউজ ভাড়া নিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন তিনি। সারা দেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাথে অনলাইনে যোগাযোগের সময় ব্যবহার করতেন অনলাইন প্রটেক্টেট টেক্সট। আনসার আল ইসলামে তার সাংগঠনিক নাম হচ্ছে আ. কাদের। সংগঠনে যোগদানের সময় নাম ছিল সোবাহান।
দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত বলেও জানায় গোয়েন্দা পুলিশ। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সংগঠনের বেশ কয়েকজন আটক হলে গ্রেফতার এড়াতে কিশোরগঞ্জ শহরে কোচিং ব্যবসা শুরু করেন তিনি। আর গোপনে চলে জঙ্গি কার্যক্রম।