বাংলাদেশের সংবিধান পৃথিবীর সুলিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম

November 04, 2022 at 02:16AM
from jagonews24.com | rss Feed
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিজয় অর্জনের এক বছরের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু দেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান উপহার দেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে খুবই বিরল। বাংলাদেশের সংবিধান পৃথিবীর সুলিখিত সংবিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) ‘জাতীয় সংবিধান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ ৪ নভেম্বর, জাতীয় সংবিধান দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে গণপরিষদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। সংবিধান একটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের কার্যপরিধিসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ামক দলিল। সংবিধান প্রণয়নের সুবর্ণজয়ন্তীতে ৪ নভেম্বরকে ‘জাতীয় সংবিধান দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষে আমি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার নেতৃত্ব ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার পর খুব কম সময়ের মধ্যে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ও তাদের মতামতের ভিত্তিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান রচিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তার সুদীর্ঘ সংগ্রামের পথপরিক্রমায় সমগ্র জাতিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তারই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন এবং ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ সংবিধান কার্যকরী হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে (ক) স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (The Proclamation of Independence 1971) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১; এবং (খ) বাংলাদেশের অস্থায়ী শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২ (Provisional Constitution of Bangladesh Order, 1972) ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২-এ দুটি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান ছিল। পরে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ, ১৯৭২’ জারি করেন। উক্ত আদেশের মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের ১৬৭ জন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ২৯৮ জন সদস্যকে নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়।
আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘খসড়া সংবিধান’ বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। বিলটি উত্থাপনের পর বিলের ওপর গণপরিষদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদের সদস্যরা হাতে লিখিত সংবিধানের মূল কপিতে স্বাক্ষর করেন এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের মূলনীতি অনুসরণের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার জন্য আমি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় সংবিধানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় সংবিধান দিবস উদযাপন সফল হোক- এ কামনা করি।
এইচএস/ইএ