টাঙ্গাইলে ১৩ দিন পর ধর্ষণ মামলা নিলেও মেডিকেল টেস্ট করায়নি পুলিশ


November 24, 2022 at 05:53AM
from somoynews.tv | RSS Feed

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পাইকড়া ইউনিয়নে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ১৩ দিন পর পুলিশ মামলা নিলেও ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর মেডিকেল টেস্ট হয়নি এখনো।

ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী জানান, চলতি মাসের ২ তারিখ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ছাতিহাটি চকপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে হাসিব (২৫) ও আয়নালের ছেলে রিপনসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জন একটি সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে। পরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে অন্যদের সহযোগিতায় হাসিব একাধিকবার ধর্ষণ করে। ওইদিন রাত ৩টার দিকে তারা বাড়ির পাশে ফেলে যায়। তখন চিৎকার শুনে মা-বাবা এগিয়ে আসলে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

এ বিষয়ে ওই স্কুল ছাত্রীর মা বেগম জানান, ঘটনার পরদিন তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন, ইউপি সদস্য বাবু খান ও মহিলা ইউপি সদস্য মলিনা বেগমকে জানান। পরে কালিহাতী থানায় ছাতিহাটি চকপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে হাসিব, আয়নালের ছেলে রিপন, মুনায়েম হোসেনের ছেলে আয়নাল ও নুরু মিয়ার ছেলে ফারুক সহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালিহাতী থানার এসআই আলামিন এলাকায় তদন্তে এসে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে চেয়ারম্যান মেম্বারদের নিয়ে আপোষ করে ফেলতে বলেন। পরে চেয়ারম্যান মহিলা ইউপি সদস্য মলিনা বেগমের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ছেলে পক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আপোষ নামায় জোরপূর্বক তার সাক্ষর নেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ধর্ষণ করত শামীম

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ওসিকে জানালে তিনি মামলা নিতে গড়িমসি করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে বিভিন্ন মহলের চাপে ঘটনার ১৩ দিন পর গত ১৫ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলামিনকে পরিবর্তন করে এসআই কামরুলকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর মামলা নিয়ে আমার মেয়েকে মেডিকেল করানোর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আমার মেয়ে অসুস্থ বলে পুলিশ ৭ দিন পর মেডিকেল করার জন্য আসতে বলেন। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আসামিদের লোকজন মামলা তুলে নিতে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে চলছে।

অপরদিকে ঘটনার ২১ দিন অতিবাহিত হলেও ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীকে মেডিকেল না করায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তারা মনে করছেন, এটি একটি ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছু নয়।

এ বিষয়টি ওই স্কুল ছাত্রীর মা রোববার (২০ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাত করে অবগত করলে কালিহাতী থানার ওসিকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিষয়টি পাইকড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন স্বীকার করে বলেন, জরিমানার টাকা ১০ তারিখে দেয়ার কথা থাকলেও জানতে পারি তারা থানায় মামলা করেছেন। এজন্য টাকাগুলো আর দেয়া হয়নি। পরে আমি বিষয়টি ওসি এবং এসআই আলামিনকে জানাই।

আরও পড়ুন: ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণের অভিযোগ এলাকায় জরিমানা করে মীমাংসা করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন তিনি জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান।

কালিহাতী থানার এসআই আলামিন আপোষ মীমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটা আপোষযোগ্য নয়। আইনগতভাবে আপোষ করার কারও এখতিয়ার নেই।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, প্রথমে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবার থানায় হুমকির অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় পুলিশ পাঠাই। পরবর্তীতে স্কুল ছাত্রী বলেছে যে তাকে ধর্ষণ করেছে। আমরা সেই ধর্ষণের বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা নিই। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ওই স্কুল ছাত্রীকে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) মেডিকেলে পাঠানোর পরও হয়নি। পরে বুধবার (২৩ নভেম্বর) পুনরায় মেডিকেল করানোর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল সেদিনও ওই ছাত্রীর শারীরিক সমস্যার কারণে মেডিকেল হয়নি। এতে আলামত নষ্ট করার পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই বলেও জানান তিনি।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url