গাইবান্ধায় শিশু শ্রমিকের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের


November 20, 2022 at 11:34PM
from jagonews24.com | rss Feed

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের একটি ফার্নিচার কারখানায় বেআইনিভাবে কর্মরত শিশু শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই ফার্নিচার কারখানা নিয়ম ছাড়া পরিচালনা করার বিষয়টিও তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পেলে ওই কারখানা বন্ধ করতে যে আবেদন করা হয়েছে তা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদেশের কপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুরের বিভাগীয় কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে রোববার (২০ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ।

এর আগে গত ২২ মে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার কোমরপুর বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে হাঁসবাড়ী রোডে অবস্থিত কারখানাটি আইন না মেনে পরিচালনা করার অভিযোগ তুলে তদন্ত সাপেক্ষে তা বন্ধ করতে আবেদন করেন মো. আরিফুল ইসলাম। পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুরের বিভাগীয় কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়, গত বছর থেকে পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন অবস্থায় এবং কলকারখানা আইন, শ্রম আইন অনুসরণ করা হয় না কারখানায়। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫০ জন শিশু শ্রমিক কর্মরত থাকলেও এখনো শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপ-পরিচালক শ্রম অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চল থেকে শিশুশ্রম বন্ধের পদক্ষেপ নেয়নি।

ওই কারখানার মালিক আব্দুস ছালাম মধ্যরামচন্দ্রপুর মৌজার তৌহিদুল ইসলামের ছেলে আবু রায়হানকে (৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র) শিশু শ্রমের কাজে লাগান। ফার্নিচার সেটিংয়ের সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে গত ৪ এপ্রিল শিশু রায়হান মারা যায়। এরপর স্থানীয় জনগণের চাপে রায়হানের বাবা তৌহিদুল ইসলামকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সে টাকা এখন পর্যন্ত দেননি তিনি।

কারখানাটি আইন বহির্ভূত, শ্রমনীতি বহির্ভূত, শিশুশ্রম দ্বারা পরিচালিত, আয়করসহ ভ্যাট না দিয়ে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করায় বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। তারপরও প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় গত ৩১ অক্টোবর রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট এস এম হারমুজ আহমেদ ও আরিফুল ইসলাম।

এফএইচ/কেএসআর


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url