মজুরদের দিয়ে ট্রেনের টিকিট কেটে কালোবাজারে বিক্রি করতো তারা!

October 21, 2022 at 07:48AM
from somoynews.tv | RSS Feed
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের হোতাসহ ৫ জনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৩)।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের হোতা মো. সেলিম ও তার চার সহযোগীকে আটক করা হয়। আটক অন্যরা হলেন- শাহ আলম, লিটন, আব্দুল রশিদ ফকির ও খোকন মিয়া।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ট্রেনের ৮৮টি টিকিট, চারটি মোবাইল ফোন এবং ১৮ হাজার ৪৪৭ টাকা জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর টিকাটুলিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, চক্রটি রিকশাওয়ালা, কুলি, দিনমজুরদের টিকিট কাউন্টারের সামনে দাঁড় করিয়ে তাদের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে। প্রতিটি এনআইডির বিপরীতে ৪টি করে টিকিট সংগ্রহ করা যায়। একইসঙ্গে অনলাইন থেকে বিভিন্ন এনআইডি ও মুঠোফোন নম্বর দিয়েও টিকিট নেয় তারা। পরে ট্রেন ছাড়ার এক দুই ঘণ্টা আগে চড়া দামে টিকিট বিক্রি করে। এমনকি ফেসবুক গ্রুপ খুলে টিকিট বিক্রির প্রচারণাও চালায় চক্রটি।
আরও পড়ুন: বাংলাবান্ধা দিয়ে শিগগিরই ফের যাত্রী যাতায়াত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এই চক্রটি মূলত তিস্তা এক্সপ্রেস, এগারো সিন্দুর, মহানগর প্রভাতী, চট্টলা এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এবং পারাবত এক্সপ্রেস- এসব ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে থাকে। তাদের আরও সদস্য ও ইউনিট রয়েছে, প্রতিটি ইউনিটে ৫-৭ জন করে সক্রিয় সদস্য রয়েছে।
গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রটি গত ৭ বছর ধরে সেলিমের নেতৃত্বে টিকিট কালোবাজারির মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
ঈদের সময় তাদের দৌরাত্ম আরও বেড়ে যায় জানিয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঈদসহ বিভিন্ন ছুটি এবং উৎসবকে কেন্দ্র করে তারা এক একটি টিকিট ৩-৪ গুণ বেশি দামে বিক্রয় করে থাকে। গত কোরবানির ঈদের সময় ৫০০ টাকার টিকিট সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকায়ও বিক্রি করেছে।
চক্রের হোতা সেলিমের নামে টিকিট কালোবাজারির দায়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মোট ৭ টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সে বিভিন্ন মেয়াদে জেলও খেটেছে। এছাড়া অপর আসামিদের বিরুদ্ধেও রয়েছে বেশ কয়েকটি মামলা।