ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বল্লম-টেঁটা নিয়ে রাত জেগে পাহারা


October 28, 2022 at 04:54AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ডাকাত আসছে–এমন আতঙ্কে মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিং শোনার পর এলাকার লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় পাহারা দেন। পাশাপাশি জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে টহলের সংখ্যা বাড়ায়। তবে রাতে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মসজিদের মাইকে 'পুলিশ বলছে ডাকাত আসতে পারে'–এমন ঘোষণা দেয়া হয়। এই সংবাদ দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে গোটা উপজেলায় ভাইরাল হয় ডাকাত আতঙ্ক।


খোঁজ নিয়ে ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. মোখলেছুর রহমান এলাকার মসজিদে মাইকে ঘোষণা করেন, ‘পুলিশ বলছে এলাকায় ডাকাত এসেছে' সবাই ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসুন।


মসজিদের মাইকে এ খবর প্রচার হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। মানুষ বল্লম-টেঁটা, লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। কিন্তু সকালে বিভিন্ন ইউনিয়নে খবর নিয়ে জানা যায়, কোথাও কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।


আরও পড়ুন: ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার ৫


খবর পেয়ে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় টহল দেয়। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।


এ ব্যাপারে মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোন করে  জানায়, নাসিরনগরে ডাকাত আসছে। যেকোনো সময় যেকোনো গ্রামে প্রবেশ করে ডাকাতি করতে পারে, তাই আপনারা সতর্ক থাকুন এবং গ্রামের নিরাপত্তা দিতে স্থানীয়দের নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করুন। আমরা পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কাজ করেছি।’


এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘রাতের বেলা ওসি সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে ডাকাতের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। পরে আমরা জনগণকে নিয়ে রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পাহারা দিয়েছি। তবে উপজেলায় কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।’


এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, ‘হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল, মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে নাসিরনগর উপজেলার মানুষকে সতর্ক করতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু কিছু এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে বলা হয়েছিল সতর্ক থাকতে, কোনো তথ্য পেলে পুলিশকে জানানোর জন্য। কিন্তু কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে এ ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করেছে।’


এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, সম্প্রতি সিলেট, ‘মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সে জন্য বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে আমরা নাসিরনগরের লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলেছি এবং হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা থেকে নাসিরনগর উপজেলার প্রবেশমুখ এবং মাধবপুর উপজেলা থেকে নাসিরনগর উপজেলার প্রবেশমুখে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়েছিলাম।’

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url