কারাগারে করোনায় আক্রান্ত জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ


October 11, 2022 at 05:52AM
from somoynews.tv | RSS Feed

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও খ্যাতনামা সাংবাদিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।

সোমবার (১০ অক্টোবর) তার স্ত্রী স্টেলা অ্যাসাঞ্জ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন । প্রেস অ্যাসোসিয়েশন নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে সিবিএস নিউজ।

অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার স্ত্রী স্টেলা বলেছেন, গত সপ্তাহেই অ্যাসাঞ্জ অসুস্থ বোধ করছিলেন। কিন্তু শুক্রবার (৭ অক্টোবর) আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সঙ্গে জ্বর ও কাশি শুরু হয়। তাকে ওষুধ দেয়া হয়েছে। শনিবার (৮ অক্টোবর) তার করোনা ধরা পড়ে। 

অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ না করার দাবিতে শনিবারই লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে দীর্ঘ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। এ মানববন্ধনে অংশ নেন হাজার হাজার অ্যাসাঞ্জ সমর্থক ও অধিকার কর্মীরা।

রয়টার্স জানায়, এদিন অ্যাসাঞ্জের স্ত্রী স্টেলা অ্যাসাঞ্জ ছাড়াও এ মানববন্ধনে যোগ দেন যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন ও অধিকার কর্মী নাজনিন জাঘারির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মানববন্ধন পার্লামেন্টের সামনের রেলিং থেকে শুরু হয়ে টেমস নদীর অপর প্রান্তে ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীদের একটাই চাওয়া, অ্যাসাঞ্জকে শিগগিরই মুক্তি দিতে হবে।

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরজি অ্যাসাঞ্জের পরিবারের

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে লন্ডনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে করা মামলায় তাকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার তোড়জোড় করছে যুক্তরাজ্য সরকার। গত ১৭ জুন তাকে প্রত্যর্পণের অনুমোদন দেন সাবেক ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল।

২০০৬ সালে উইকিলিকস চালু করেন অ্যাসাঞ্জ। এতে তিনি একের পর এক গোপন মার্কিন নথিপত্র প্রকাশ করতে থাকেন। ২০১০ সালের জুলাইয়ে উইকিলিকস আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের প্রায় ৭০ হাজার নথি প্রকাশ করেছিল। এসব তথ্য পরে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এ কারণে বিব্রত যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এরপর থেকে গ্রেফতার এড়াতে সাত বছর ধরে যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। সেখান থেকে ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার করে লন্ডন পুলিশ।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের একটি নিম্ন আদালত এক দশক আগে গোপন মার্কিন সামরিক নথি প্রকাশের জন্য অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তখন আদালত বলেন, অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো যাবে না। তার মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে।

আরও পড়ুন: অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে মানববন্ধন

তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যকে বলা হয়, যদি তারা অ্যাসাঞ্জকে হস্তান্তরে সম্মত হয়, তবে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা তার জন্মভূমি অস্ট্রেলিয়ায় যে কোনো মার্কিন কারাগারে সাজা ভোগ করতে পারবেন।

এ ছাড়া তাকে কলোরাডোর উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট এডিএক্স কারাগারে রাখা হবে না। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা। এরপর যুক্তরাজ্যের নিম্ন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র।


আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই গত মাসে কারাগারেই নিজের বাগ্‌দত্তা স্টেলা মরিসকে বিয়ে করেন অ্যাসাঞ্জ। বিশ্বের বহু মানুষই মনে করেন, গোপন নথি ফাঁস করে তেমন গুরুতর কোনো অন্যায় করেননি অ্যাসাঞ্জ।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে একই কথা বলেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর। তিনি বলেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গুরুতর কোনো অপরাধ করেননি। এ সময় অ্যাসাঞ্জকে আবারও আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দেন লোপেজ। 
 

 

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url