শীতলক্ষ্যায় মিলল নিখোঁজ যুবকের মরদেহ


September 17, 2022 at 06:29AM
from somoynews.tv | RSS Feed

নারায়ণগঞ্জ শহরে নিখোঁজের দুদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মৃদুল (২৫) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার কয়লাঘাটের নলুয়াপাড়া এলাকা থেকে ওই যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করে নৌপুলিশ।

নিহত মৃদুল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াপাড়া এলাকার ওবায়েদ উল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় গম ব্যবসায়ী ছিলেন।


সরেজমিনে সন্ধ্যায় নলুয়াপাড়া এলাকায় বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। ছেলে হারানোর শোকে বিলাপ করছেন আর বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন মৃদুলের মা কানিজ ফাতেমা। এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের কেউই।


মৃদুলের বড় ভাই ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ বাবু সময় নিউজকে জানান, বুধবার দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মৃদুল। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতেও মৃদুল বাসায় ফিরে না আসলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা।


শুক্রবার বিকেলে শীতলক্ষ্যা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে মৃদুলের স্বজনরা গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর জেনারেল হাসাপাতালের মর্গে পাঠায় নৌপুলিশ।


আরও পড়ুন: সুগন্ধা নদীতে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার


মৃদুলের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে সময় সংবাদকে বলেন, আমার ছেলে এলাকার কিছু খারাপ ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা করতো। আমি তাকে নিষেধ করতাম। শাসন করতাম। ছেলে খুব রাগী ছিল। তবে বাইরে কোথাও গেলে আমাকে ফোন করে জানাতো কোথায় আছে। বাসায় ফিরতে দেরি হলে সেটাও আমাকে ফোন করে আগে জানিয়ে দিতো। বুধবার দুপুর থেকে ফোন বন্ধ পাওয়ায় আমার মনে ভয় সৃষ্টি হয়। এখন আমার ছেলেকে কেউ হত্যা করল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করব।


তিনি বলেন, আমিতো দেখি নাই আমার ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে। তাকে কেউ মেরে ফেলেছে নাকি নদীতে পড়ে গিয়ে মারা গেছে; এর কোনো প্রমাণ নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি হত্যার প্রমাণ হয় তবে থানায় মামলা করব এবং বিচার চাইব।


মৃদুলের পরিবারের দাবি, মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে মৃদুলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ ন্যায়বিচার দাবি করছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।


তবে সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সময় নিউজকে জানান, মরদেহে পচন ধরায় আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়ে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url