ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান, ২০ হাজার টাকার রশিদে এক লাখ ২০ হাজার আদায়


September 09, 2022 at 05:33AM
from somoynews.tv | RSS Feed

ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ এনে জরিমানার টাকা গ্রহণ করলেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। আর প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের হাতে রশিদ দেয়া হলো ২০ হাজার টাকা। অভিযানকারী কর্মকর্তা এবং তার নিজস্ব দালাল ভাগ করে নিলেন এক লাখ টাকা। এ নিয়ে জানাজানি হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ওই ভুক্তভোগীর হাতে ফেরতও দিলেন এক লাখ টাকা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইমরানের নিজস্ব দালাল হিসেবে পরিচিত মো. রিদুয়ানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান।


মো. আবু সুফিয়ান জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে জরিমানার নামে দালালের মাধ্যমে টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।


বৃহস্পতিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এসে জরিমানার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী রামুস্থ নাহার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এ সময় তিনি জরিমানা টাকা আত্মসাতের বিষয়ে প্রমাণাদি হিসেবে মুঠোফোনের কল রেকর্ড এবং ভিডিও চিত্রও দেন।


আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় বাড়তি দামে সার বিক্রির দায়ে জরিমানা


নাহার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন নেতৃত্বে একটি দল নাহার ফিলিং স্টেশনে আসে। এ সময় তার সঙ্গে কিছু আনসার সদস্য আর রিদুয়ান নামের এক ব্যক্তি ছিলেন। পরে সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন একটি জ্বালানি তেলের পরিমাপ যন্ত্র নিয়ে পরিমাপ করেন এবং সামান্য ত্রুটি রয়েছে বলে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেয়। পরে অফিসে যোগাযোগের জন্য বলা হয়।


'এরপর একই দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে আসলে সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনকে অফিসে ছিলেন না। পরবর্তীতে মুঠোফোনে কল করলে সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন এক লাখ টাকা রিদুয়ানকে এবং ২০ হাজার টাকা অফিসে জমা দিতে বলেন। তারপর রিদুয়ানকে ডেকে তার হাতে এক লাখ টাকা জমা দিয়েছি। আর বাকি ২০ হাজার টাকা অফিসের ভেতরে গিয়ে এক কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে একটি রশিদ সংগ্রহ করি। পরবর্তীতে অফিসের কর্মকর্তা ২০ হাজার রশিদ দেয়ায় সন্দেহ লাগে। তাই এর পরদিন বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুনরায় রিদুয়ানকে এক লাখ টাকা দেয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে রেকর্ড করি আর সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের সঙ্গে কথা বলে তারও কল রেকর্ড করি।'


এ ঘটনার পরপর বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের সাথে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনোভাবেই কোন রিসিভ করেননি।


দালাল হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ রিদুয়ানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে আসলে সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের সাথে ক্যাব প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অভিযানে যান। ওখানে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।


আরও পড়ুন: খাবারে রং ব্যবহার করায় বেকারিকে জরিমানা


পরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী, কর্মকর্তার সাথে সরাসরি আলাপ করার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।


নাহার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, 'বিষয়টি বৃহস্পতিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান স্যারের কক্ষে আমি ও সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন যায়। এসময় প্রথমে মো. ইমরান হোসাইন বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করে। কিন্তু পরবর্তীতে কল রেকর্ড শুনার পর এক লাখ টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার মধ্যে রিদুয়ানকে ১০ হাজার টাকা এবং মো. ইমরান হোসাইন ৯০ হাজার টাকা নেন বলেও স্বীকার করেন। একই সঙ্গে এক লাখ টাকাও ফেরত দেয়া হয়।'


অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান বলেন, অভিযোগকারী, দালাল এবং মো. ইমরান হোসাইনের উপস্থিতিতে অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় দালাল রিদুয়ানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।

]]>
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url